Wednesday, November 4

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ বলে মন্তব্য করার পর এর কড়া জবাব দিয়েছেন চসিক মেয়র। তিনি দাবি করেছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত রয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ডা. শাহাদাত হোসেন এসব কথা বলেন।

চসিক মেয়র বলেন, জামায়াতের আমির চট্টগ্রামের লালদীঘির সমাবেশে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’-এর কথা বলেছেন। তার দাবি, ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনামলে তার নির্বাচিত হওয়ার রায় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবৈধভাবে মেয়র হওয়া রেজাউল করিমের মেয়রত্বের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। ওই মামলার রায়েই তাকে বৈধভাবে মেয়র হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ডা. শাহাদাত বলেন, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পর তিনি শপথ নিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ রায় দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় জামায়াতের সঙ্গে থাকা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতারাও অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন পদে ছিলেন।

নিজের আইনি লড়াইয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশিত ওই রায়ের জন্য তিনি তিন বছর লড়াই করেছেন। মামলা করার কারণে তাকে ছয় মাস কারাগারে থাকতে হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে একের পর এক গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। গত ১৬ বছরে তার বিরুদ্ধে ১১০টির বেশি মামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ডা. শাহাদাত আরও বলেন, রায়ে আওয়ামী লীগের মেয়রকে অবৈধ এবং তার মেয়াদকেও অবৈধ বলা হয়েছে। তার দাবি, ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর তিনি মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সেই হিসাবে স্বাভাবিকভাবে তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত থাকার কথা।

তবে বৃহত্তর জনগণের স্বার্থে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে পদ ছাড়তে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রামসহ দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলে তিনি নিজেই পদ থেকে সরে যাবেন এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে স্বাগত জানাবেন।

জামায়াত আমিরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এ বক্তব্যে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তার দাবি, ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মাধ্যমে ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের সময়ে নির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিমকে বৈধতা দেওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। একই সঙ্গে ওই বক্তব্য আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে ডা. শাহাদাত বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ‘সুন্দর ও নির্মল রাজনীতি’ করে আসছেন এবং গণতন্ত্রকে সম্মান করেন। মঈনউদ্দীন-ফখরুদ্দীন সরকারের সময় থেকে গত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য তিনি সংগ্রাম করছেন বলেও দাবি করেন।

তিনি বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত হলেও স্থানীয় সরকার বিভাগ যখনই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে, সেদিনই তিনি স্বেচ্ছায় পদ থেকে সরে যাবেন। গণতান্ত্রিক নির্বাচনে যারাই অংশ নিতে চান, তাদের সবাইকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Leave A Reply


Math Captcha
5 + 1 =