Thursday, November 5

চবি প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) আয়োজিত ‘জাগ্রত জুলাই: কালচারাল ফেস্ট’-এর চিত্রকলা ও গ্রাফিতি প্রদর্শনীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবি ও একটি বাণীসংবলিত ফেস্টুন প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদল ও বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতারা আপত্তি জানালেও চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব বলেছেন, এতে আপত্তির কিছু নেই।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে শহীদ আব্দুর রব হল মাঠে দুই দিনব্যাপী ‘জাগ্রত জুলাই: কালচারাল ফেস্ট’-এর উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনীস্থলের পাশে প্রথমে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবি ও বাণীসংবলিত ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়। পরে অনুষ্ঠান শেষে সাঈদীর ফেস্টুনটি মাঠের অন্য পাশে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ফেস্টুনে সাঈদীর নামে লেখা ছিল— “আমি দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে উত্তর গগণে কালো মেঘ জমা হয়েছে। যদি সক্ষমভাবে মোকাবিলা করতে না পারেন, তবে এমন গাঢ় কালো অমাবস্যার রাত আসতে পারে, যার সুবহে সাদিক হওয়া অসম্ভব।”

এ ঘটনায় আপত্তি জানিয়ে ছাত্রদল প্যানেল থেকে নির্বাচিত চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক অভিযোগ করেন, চাকসুকে দলীয় প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সব মত ও আদর্শের শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে সাঈদীর ফেস্টুন প্রদর্শন অনুচিত। পরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ফেস্টুন এনে বিষয়টিকে ভারসাম্যপূর্ণ দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, যুদ্ধাপরাধ মামলায় দণ্ডিত ও বিতর্কিত একজন ব্যক্তির ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে চাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করেন।

অন্যদিকে, চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বাংলাদেশের বহু মানুষের শ্রদ্ধার ব্যক্তি। তার দাবি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে সে সময় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা প্রশ্ন তুলেছিল। তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বাণী রাখা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সিকদার অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণের আড়ালে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনীতিকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন চবি গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সদস্য রিশাদ আমীন বর্ণ। তার ভাষ্য, ছাত্রশিবির চাকসুর ব্যানার ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে চাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী চিত্রকলা ও গ্রাফিতি প্রদর্শনী এবং শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাগুলো জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় এবং শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে।

Leave A Reply


Math Captcha
48 + = 51