Thursday, November 5

পঞ্চম দিনের মতো টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। চট্টগ্রামের সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ডলু, টঙ্কাবতী, মাইনী ও চেঙ্গী নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী এবং খাগড়াছড়ির সদর ও দীঘিনালা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

জলাবদ্ধতার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বহু গ্রামীণ সড়ক, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার প্রায় সব ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে, আর বাঁশখালীর অধিকাংশ বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক দশকের মধ্যে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তারা দেখেননি।

ভারী বর্ষণের সঙ্গে বেড়েছে পাহাড়ধসের ঝুঁকি। গত তিন দিনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটিতে পাহাড় ও দেয়ালধসে মোট ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসে একই এলাকার দুটি পরিবারের পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন।

খাগড়াছড়িতে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দীঘিনালা-লংগদু, দীঘিনালা-সাজেক এবং খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দীঘিনালা উপজেলার ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দীঘিনালা ও সাজেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ও সম্পদ রক্ষার জন্য এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহী। প্রশাসন মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে এবং উদ্ধার কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নদীতীরবর্তী ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 2 = 1