Sunday, September 27

স্পোর্টস ডেস্ক: তথ্যপ্রযুক্তিতে জাপানের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। দেশটির রাজপথে চলা লাখো গাড়ির বড় একটি অংশই টয়োটা করপোরেশনের তৈরি। জাপানের আইচি-নাগোয়া অঞ্চলকে অনেকে চেনেন সেই টয়োটার জন্য। শুধু গাড়ি নয়, বিমানশিল্পেও বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এ অঞ্চলের। মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের ডানা তৈরির কাজও হয় নাগোয়ায়।

শিল্প, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যময় খাবারের জন্যও পরিচিত নাগোয়া। ক্রীড়াক্ষেত্রেও রয়েছে এই শহরের আলাদা পরিচয়। জাপানের ঐতিহ্যবাহী সুমো কুস্তির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে আইচি-নাগোয়াকে বলা হয় পেশাদার সুমোর আঁতুড়ঘর।

টয়োটা, বোয়িং আর সুমোর সেই শহরেই আজ পর্দা উঠছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর এশিয়ান গেমসের।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২১ সালে রাজধানী টোকিও আয়োজন করেছিল অলিম্পিক গেমস। এবার আয়োজক হিসেবে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দেওয়ার পালা আইচি-নাগোয়ার। তবে গেমস শুরুর আগেই আয়োজন নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে প্রায় ১৭ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তার আবাসন নিশ্চিত করা আয়োজকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবাসনের স্বল্পতা এবং মান নিয়েও রয়েছে সমালোচনা।

আবাসনসহ নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আয়োজকরা কেমন গেমস উপহার দিতে পারেন, তার উত্তর মিলবে আগামী ১৬ দিনে। তবে পদকের লড়াইয়ে থাকা দেশগুলোর ভাবনায় এসবের জায়গা নেই। তাদের লক্ষ্য একটাই—সোনা জয়।

বাংলাদেশের চিত্র অবশ্য ভিন্ন। অধিকাংশ খেলায় দেশের প্রতিনিধিত্ব মূলত অংশগ্রহণকেন্দ্রিক। পদক জয়ের বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কিংবা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাঠামো—কোনোটিই শক্ত অবস্থানে নেই। ফলে ২৬০ সদস্যের বাংলাদেশ দলের বড় একটি অংশের জন্য এশিয়ান গেমস হয়ে উঠেছে অংশগ্রহণের পাশাপাশি জাপানের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ।

তবে গেমসের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহনের সম্মান ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ প্রাপ্তি। এবার সেই সুযোগ পেয়েছেন শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি ও হুমায়রা আক্তার অন্তরা। বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় নাগোয়া সিটি মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন তারা।

তবে পতাকাবাহীর সম্মান পেলেও তাদের কাছ থেকে পদকের প্রত্যাশা নেই। অন্য অনেক ক্রীড়াবিদের মতো তারাও এসেছেন এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে।

১৯৫১ সালে দিল্লিতে শুরু হয়েছিল এশিয়ান গেমসের পথচলা। দীর্ঘ ৭৫ বছরের এই যাত্রায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর লক্ষ্য অবশ্য এক নয়। কেউ আসে পদকের জন্য, কেউ অভিজ্ঞতার জন্য। আবার পদকের বাইরেও এই আসর থেকে অর্জনের সুযোগ রয়েছে—ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা।

চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের মতো দেশগুলোর কাছে এশিয়ান গেমস নিজেদের ক্রীড়া শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরার বড় মঞ্চ। সাম্প্রতিক আসরগুলোর সাফল্যের ধারায় চীন এবারও অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। আয়োজক জাপানও চাইবে ঘরের মাঠে চীনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে।

সব মিলিয়ে আগামী ১৬ দিনে নাগোয়া, টোকিও ও ওসাকার ৬৪টি ভেন্যুতে ৪৩টি খেলায় ৭১টি ডিসিপ্লিনে লড়বেন এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৫ হাজার ক্রীড়াবিদ। বিতরণ হবে ৪৬৯টি স্বর্ণপদক।

বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে এতটা হতাশার ছবি আঁকার পরও ইতিহাস কিছুটা আশার আলো দেখায়। ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসে বক্সার মোশাররফের হাত ধরে বাংলাদেশ প্রথমবার পদক জিতেছিল। এরপর কাবাডি হয়ে ওঠে বাংলাদেশের অন্যতম পদকের উৎস। এশিয়ান গেমস থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাতটি পদক এসেছে এই খেলায়।

তবে গত দুই আসরে কাবাডি থেকে কোনো পদক আসেনি। সেই শূন্যতা কিছুটা পূরণ করেছে ক্রিকেট। ২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত এ খেলায় ছয়টি পদক জিতেছে। প্রথম আসরেই পুরুষ ক্রিকেট দল জিতেছিল স্বর্ণপদক—যা এখন পর্যন্ত ক্রিকেটে বাংলাদেশের একমাত্র সোনা।

পরবর্তী আসরগুলোতে ক্রিকেট থেকে এসেছে রুপা ও ব্রোঞ্জ। এবারও বাংলাদেশের পদকের অন্যতম বড় সম্ভাবনা ক্রিকেটে। নারী ও পুরুষ—দুই বিভাগেই রয়েছে পদকের প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশা পূরণ হলে বাংলাদেশ দলের জন্য এশিয়ান গেমসের হিসাবটা অন্তত কিছুটা স্বস্তির হবে।

ক্রিকেটের বাইরে অন্য কোনো খেলায় অপ্রত্যাশিত সাফল্য এলে সেটি হবে বাড়তি প্রাপ্তি। যদিও বাস্তবতার বিচারে সেই সম্ভাবনা সীমিত।

অন্যদিকে নেপাল

Leave A Reply


Math Captcha
+ 40 = 41