Monday, November 9

টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরেছে। ঘোষিত মজুরি বোর্ডের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সম্মতির পর আন্দোলন থেকে সরে এসে কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা। এতে শিল্পকারখানাগুলোতে পুরোদমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, শফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা, বাসন সড়ক, টঙ্গী, সালনা, বাংলাবাজারসহ শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন শিল্পকারখানায় নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা। সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলের কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা বা শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। কারখানাগুলোতে স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে।

শ্রমিকরা জানান, সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ এবং তা বাস্তবায়নের আশ্বাসে তাঁরা কাজে ফিরেছেন। নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। বর্ধিত বেতন জানুয়ারি থেকে পাবেন শ্রমিকরা। এ ঘোষণার পর শ্রমিকদের মধ্যে কাজে ফেরার প্রবণতা বাড়ে। মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সম্মতির ফলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কাটিয়ে শিল্পকারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক হয়েছে।

প্যারাগন সোয়েটারের নারী শ্রমিক রিনা আক্তার বলেন, ‘কয়েক দিনের অস্থিরতার পর আমরা আবারও কাজে যোগ দিয়েছি। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, শান্তি চাই। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে বাঁচতে চাই।’

মস্কো গ্রুপের মেশিন অপারেটর সুমন মিয়া বলেন, ‘আমরা চাই কারখানাগুলো স্বাভাবিকভাবে চলুক। আন্দোলন-সংঘর্ষ হলে শ্রমিকদেরই বেশি ক্ষতি হয়। মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে আমরা উপকৃত হব।’

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল থেকে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শ্রমিকরা যথারীতি কাজে যোগ দিয়েছেন। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্প পুলিশের সদস্যরা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) মো. সোহেল রানা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারসহ মোট ২১ প্লাটুন সদস্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পাশাপাশি শিল্প পুলিশ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে দায়িত্ব পালন করছেন। শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং কারখানার উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে অক্টোবরের শেষ দিকে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় নতুন করে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ৩১ অক্টোবর শ্রমিকরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। সেদিন মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্যরা আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 4 = 13