Friday, September 18

সরকার একের পর এক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উন্নত ও কার্যকর আইন প্রণয়নের যে প্রত্যাশা জনগণের মধ্যে তৈরি করেছিল, নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তা পূরণ হয়নি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরের বিজয়-৭১ চত্বরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল সংসদে পাসের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তা পূরণ হয়নি। বরং আগের অধ্যাদেশ বাতিল করে আরও শক্তিশালী আইন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত দুর্বল আইন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গুমের অভিযোগের তদন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা পুলিশের হাতেই থাকলে তা প্রহসনে পরিণত হবে মন্তব্য করে মঞ্জু বলেন, গুমের তদন্ত এমন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া প্রয়োজন, যার কর্মকর্তাদের বদলি, পদোন্নতি কিংবা চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের চাপের আশঙ্কা থাকবে না।

তিনি বলেন, অতীতে গুমের অসংখ্য অভিযোগ উঠলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনো স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। তাই গুমের তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান থাকা অপরিহার্য।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনারা আমাদের উন্নত আইন দেওয়ার কথা বলে ধোঁকা দিয়েছেন। একের পর এক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছেন। মনে রাখবেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আজ যারা ক্ষমতায় আছেন, আগামী দিনে তারাও ক্ষমতার বাইরে যেতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার নিয়ে করা আইন একসময় সরকারের জন্যই বুমেরাং হতে পারে।

সরকারের অন্যান্য প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে মঞ্জু বলেন, দেড় বছরে এক কোটি কর্মসংস্থানের কথা বলা হলেও সেটি এখন ভুলে যাওয়া হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ানো হবে না বলা হলেও কয়েক দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে। মানুষের আয় না বাড়লেও সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার বিষয়টি বোঝা যায়। তবে চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ার জন্যও একই কারণ দেখানো যায় কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, সরকার অতীতের পথেই হাঁটছে।

এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মজিবুর রহমান মঞ্জু। বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, আলতাফ হোসেন ও শাহাদাতুল্লাহ টুটুল।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর ও ছাত্রপক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 5 = 7