Tuesday, October 20

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে নিজের জয় নিয়ে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে নির্বাচনে হেরে গেলেও রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন না বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রেডিও নর্থকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে হবে। তবে নিজের জয় নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং এ নিয়ে তিনি ‘খুবই চিন্তিত’।

পরবর্তী সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে রাজনীতি ছাড়বেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু সরাসরি বলেন, তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন না।

ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনে ১২০ আসনের নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের জন্য ৬১টি আসন প্রয়োজন।

বিরোধীদের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর আক্রমণ

সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট ও আবিগদোর লিবারম্যানের সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, তাঁদের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে সেটি আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হবে।

আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে আইজেনকোটকে মনসুর আব্বাস ও আহমেদ তিবির সহযোগিতা নিতে হবে। তাঁর ভাষ্য, এমন সরকার ‘আত্মসমর্পণকারী ও অকার্যকর’ হবে।

ইসরায়েলের নির্বাচনী রাজনীতিতে আরব দলগুলোর ভূমিকা এবারও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর কয়েকটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে এবং সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে।

ইরান ইস্যুতেও আইজেনকোটের সমালোচনা

ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের সম্ভাবনা মোকাবিলায় আইজেনকোট কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন না বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু। তাঁর অভিযোগ, আইজেনকোট অতীতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা মেনে নেওয়া এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর হামলা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল—এমন অবস্থান নিয়েছিলেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে আইজেনকোটের কোনো কার্যকর প্রভাব নেই বলেও মন্তব্য করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে এবং অস্তিত্বের হুমকির ক্ষেত্রে আপস করা উচিত নয়।

এসব বক্তব্য অবশ্য নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে তাঁর নিজস্ব অভিযোগ ও মূল্যায়ন।

রোনেন বারকেও আক্রমণ

সাক্ষাৎকারে সাবেক শিন বেত প্রধান রোনেন বারের করা মানহানির মামলার প্রসঙ্গেও কথা বলেন নেতানিয়াহু। বারের সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তাঁকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আখ্যা দেন তিনি।

নেতানিয়াহুর দাবি, তিনি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রকের কাছে প্রায় এক হাজার নথি জমা দিয়েছেন, যার কিছু অনলাইনেও প্রকাশিত হয়েছে। এসব নথিতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে রোনেন বারের অবস্থান স্পষ্ট ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

নেতানিয়াহু আরও অভিযোগ করেন, হামলার আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বারের দেওয়া মূল্যায়ন ও পরবর্তী বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রোনেন বারের পক্ষের বক্তব্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

Leave A Reply


Math Captcha
63 + = 66