আমার দেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি তারেক রহমান এবং মাই টিভির জেলা প্রতিনিধি তারেক আজিজ–এর ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনসহ তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২ কেজি বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু (গানপাউডার) ও ১৫০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বারঘরিয়া ইউনিয়নের নীলকুঠি মাঠসংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এ সময় আরও ২ থেকে ৩ জন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন— ফকিরপাড়া মহল্লার মৃত শহিদের ছেলে মো. রাব্বি (২৬), একই এলাকার মৃত মনিরুল ইসলাম মনিরের ছেলে মো. সোহেল ওরফে জিনজিরা (৩০) এবং প্রফেসরপাড়া মহল্লার মো. সুমনের ছেলে মো. সুমিত ওরফে আলিফ (২৪)।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তাররা চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এর মধ্যে রাব্বির বিরুদ্ধে খুন, অস্ত্র, ডাকাতি ও বিস্ফোরকসহ মোট ৯টি মামলা রয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল রাতে শহরের বাতেন খাঁ মোড়ে একটি চায়ের দোকানে বসাকে কেন্দ্র করে ৮ থেকে ১০ জন সন্ত্রাসী সাংবাদিক তারেক রহমান ও তারেক আজিজকে বেধড়ক মারধর করে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

ঘটনার রাতেই তারেক রহমান সদর থানায় রাব্বি ও সোহেলের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক ছিলেন।

ঘটনার প্রতিবাদে গত ৬ মে জেলার পাঁচ উপজেলায় সাংবাদিকরা একযোগে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেন। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়। পরে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

শনিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানায়, বিস্ফোরক ও হেরোইন উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরামুল হোসাইন বলেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 50 = 53