ঢাকা, ৭ জুন: ফল রপ্তানি করে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ১২ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৬ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ফল রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮২ শতাংশেরও বেশি।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ফল রপ্তানি থেকে এটিই দেশের সর্বোচ্চ আয়।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফল রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ২ কোটি ৯২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এর আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় ছিল মাত্র ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ফলে গত কয়েক বছরে এ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আম, পেয়ারা, কাঁঠালসহ দেশীয় ফলের চাহিদা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে উৎপাদন, রপ্তানিমুখী ফল চাষের সম্প্রসারণ এবং নতুন বাজারে প্রবেশাধিকার পাওয়ার কারণে রপ্তানি দ্রুত বেড়েছে।
ইপিবির তথ্য অনুসারে, ‘বাদাম, তাজা বা শুকনো’ শ্রেণির পণ্য থেকে সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১২ কোটি ২৮ লাখ ১৮ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৬ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
এ ছাড়া হিমায়িত ফল ও বাদাম রপ্তানি থেকে আয় বেড়ে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮২১ ডলারে পৌঁছেছে। তাজা ফলের রপ্তানিও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রপ্তানিকারকদের মতে, গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে আম এখনো বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
উন্নত মান ও প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে পেয়ারা ও কাঁঠালও বিদেশি বাজারে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পাশাপাশি আনারস, লিচু, কলাসহ অন্যান্য মৌসুমি ফলের রপ্তানিও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের ফল সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে রপ্তানি হচ্ছে।
ইপিবির পরিচালক কুমকুম সুলতানা বলেন, “বাংলাদেশে ফল চাষে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে পার্বত্য জেলাগুলোতে। সেখানে এক ধরনের ফল বিপ্লব ঘটছে। ড্রাগন ফল, কাজুবাদাম ও কফির মতো ফসলের চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।”
ইপিবির সহসভাপতি মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, “ফল রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, কারণ এ খাত মূলত দেশীয় কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল। অন্যান্য অনেক শিল্পখাতের মতো এতে আমদানিনির্ভর উপকরণের প্রয়োজন তুলনামূলক কম।”

