Friday, November 6

প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মা দিবস। মাকে নিয়ে লেখা শুরু করলে তা যেন শেষ করা যায় না। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর, সবচেয়ে নিরাপদ আর সবচেয়ে আবেগময় ডাক হলো— “মা”।

এই একটি শব্দের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, স্নেহ, মায়া আর আশ্রয়ের অনুভূতি। মানুষ যত বড়ই হোক, কষ্ট বা ভয় পেলে অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে আসে— “মা”।

আমাদের জীবনের প্রতিটি ধাপে মায়ের অবদান গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। জন্মের পর প্রথম স্পর্শ, প্রথম হাঁটা, প্রথম কথা বলা থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি সফলতা ও ব্যর্থতায় একজন মা নীরবে পাশে থাকেন। তাই অনেকের মতে, মায়ের জন্য আলাদা কোনো দিবসের প্রয়োজন নেই। তবুও মাকে সম্মান ও ভালোবাসা জানাতে একটি বিশেষ দিন উদযাপন করার মধ্যে আলাদা এক আবেগ কাজ করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়েও আজ মায়েদের নিয়ে ভালোবাসার প্রকাশ দেখা যাচ্ছে। অনেকে মায়ের সঙ্গে ছবি শেয়ার করছেন, লিখছেন স্মৃতিমাখা অনুভূতি আর কৃতজ্ঞতার কথা।

মাকে নিয়ে কবি কাদের নেওয়াজ লিখেছিলেন—

“মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই,
ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই।”

যুগে যুগে কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীরা মাকে নিয়ে লিখেছেন অসংখ্য কবিতা, গান ও গল্প। কারণ, মায়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবনের সবচেয়ে নির্মল স্মৃতিগুলো।

মা দিবস-এর ইতিহাসও বেশ আবেগঘন। ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এই দিবস পালন করা হয়। মার্কিন শিক্ষিকা আনা জার্ভিস তার মা অ্যান মেরি রিভস জার্ভিস-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিবসটি চালুর আন্দোলন শুরু করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ধীরে ধীরে এটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পায়।

আজকের এই দিনে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও অফুরন্ত ভালোবাসা। সব মা সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন— এটাই হোক সবার প্রত্যাশা।

Leave A Reply


Math Captcha
54 − = 45