জামালপুরে নাশকতা মামলার বাদীকে আদালত প্রাঙ্গণে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জান্নাতুল হুমায়রা ওরফে জেমি নামে এক নারীকে আটক করে পুলিশ। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন। এ সময় আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামালপুর কোর্ট ইন্সপেক্টর (ওসি) মো. খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী। এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার মো. রাসেল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার নাঙ্গলজোড়া এলাকার বাসিন্দা। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর তিনি জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
পুলিশ ও আহত ব্যক্তির পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মুন্সীনাংলা এলাকায় একটি শিল্পকারখানায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, জান্নাতুল হুমায়রা, মাসুদ, সামিউল ইসলাম ওরফে জাম্বুর, আমিনুর ইসলাম ওরফে ফকির এবং আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানাটিতে হামলা চালান। এ সময় ফাঁকা গুলি ছোড়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনায় সেদিনই মেলান্দহ থানায় বাদী হয়ে নাশকতার মামলা করেন রাসেল হোসেন।
মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে রাসেল আদালত প্রাঙ্গণে তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় জান্নাতুল হুমায়রা ও মাসুদের নেতৃত্বে কয়েকজন আসামি তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা রাসেলের গেঞ্জির কলার ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে তিনি আহত হন।
এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জান্নাতুল হুমায়রাকে আটক করেন।
রাসেল হোসেন বলেন, মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। শুনানি শেষে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার সময় পরিকল্পিতভাবে জান্নাতুল হুমায়রা ও মাসুদের নেতৃত্বে আসামিরা তার ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি মাথায় আঘাত করা হয়। মামলা তুলে না নিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামালপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রিশাদ রেজওয়ান বাবু বলেন, আদালত প্রাঙ্গণ বিচারপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হওয়ার কথা। সেখানে একজন মামলার বাদীকে মারধরের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। এ ধরনের ঘটনা বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার পরিবেশ ও আদালতের মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান তিনি।
কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, মামলার শুনানি শেষে ওই নারীসহ কয়েকজন আসামি বাদীকে মারধর করেন। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে আদালতের নির্দেশে জান্নাতুল হুমায়রাকে আটক করে বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি নিজেই মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

