Tuesday, October 27

গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন। সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে ইসরায়েল প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে একে দেশটির বিরুদ্ধে ‘ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রচারণা’ বলে অভিহিত করেছে।

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বিভিন্ন লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার ফিলিস্তিনিদের সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছে। একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিও আরও অবনতি হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলার অভিযোগ

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চলাকালেও গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী অস্ত্র, ড্রোন, কোয়াডকপ্টার, কামান ও স্নাইপারের গুলি ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিরতির অস্থায়ী সীমারেখা হিসেবে পরিচিত ‘ইয়েলো লাইন’ ক্রমে গাজার আরও ভেতরে এগিয়ে আসছে। এটি কার্যত সীমান্তে পরিণত হচ্ছে, যা গাজায় ইসরায়েলের ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হওয়ার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

আগের প্রতিবেদনেও গণহত্যার অভিযোগ

গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত কমিশনের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা এসব কর্মকাণ্ডে উসকানি দিয়েছেন। ইসরায়েল তখনও এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল।

সর্বশেষ প্রতিবেদনটিও প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। জেনেভায় ইসরায়েলি মিশন বলেছে, প্রতিবেদনটি ইসরায়েলকে হেয় করার উদ্দেশ্যে চালানো ‘ভুল তথ্য প্রচারের’ অংশ।

দেশটির রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল মেরন বলেন, জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের মতো বিভিন্ন পক্ষ ইসরায়েলের বৈধতা ক্ষুণ্ন করতে এবং আত্মরক্ষা ও অস্তিত্ব রক্ষার মৌলিক অধিকার অস্বীকার করতে চাইছে।

পশ্চিম তীরেও বেড়েছে প্রাণহানি

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে অধিকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতির অবনতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫৪ জনে।

কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরালিধর বলেন, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা এবং বাড়িঘর ধ্বংস বৃহত্তর একটি কৌশলের অংশ। এর লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করা ও বাস্তুচ্যুত করা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চালানো সামরিক অভিযানের কারণে ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীরে সবচেয়ে বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ৩৪ হাজার ১৭৬ জন ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত অবস্থায় ছিলেন।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষেরও সমালোচনা

প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষেরও সমালোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভিন্নমত প্রকাশকারী ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা নিহত ও আহত হয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স

Leave A Reply


Math Captcha
82 − = 76