আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল থেকে ভালো মানুষ বাছাই করে প্রার্থী করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রার্থী বাছাই করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের মতো প্রশাসন ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্র দখল ও পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণার নির্বাচন বিএনপি চায় না।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির বিরুদ্ধে বহুমুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে দাবি করে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের পরাজিত শক্তি গুপ্তদের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র করছে। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য একটি পক্ষ অর্থ ব্যয় করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলটি গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না করছে। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েও ক্ষমতায় যেতে না পারা একটি পক্ষ এবং পলাতকরা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজিসহ সব ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এসব বিষয়ে অভিযোগ পেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দেশের মানুষ বিএনপিকে শান্তি, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রত্যাশায় ভোট দিয়েছে।
নেতাকর্মীদের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশন চলার সময় ছাড়া বাকি সময় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় থেকে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের মাদক ও জুয়া থেকে দূরে রাখতেও উদ্যোগ নিতে হবে।
সরকারি কাজে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। সঞ্চালনা করেন নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান। সভায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যসহ পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস বলেন, দলের চেয়ারম্যান প্রায় ৪৫ মিনিট বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর বার্তা ছিল, দেশের মানুষের কল্যাণে নিবেদিতভাবে কাজ করতে হবে এবং অন্যায়-অনাচারে জড়ানো যাবে না। অপরাধের ক্ষেত্রে নেতা, মন্ত্রী কিংবা সংসদ সদস্য—কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন।
সভা শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে হোটেল ত্যাগ করেন তারেক রহমান।
চাকরি ফেরত চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির সামনে নারী ব্যাংকার
এদিকে, ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত এক নারী ব্যাংকার চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রহমতগঞ্জের পূজামণ্ডপে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। কাফনের কাপড় পরা ওই নারী দুই হাত তুলে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির সামনে গিয়ে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। পরে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে সরিয়ে দেন।

