Friday, October 23

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ নাকি খ্রিষ্টান—তা কেউ জিজ্ঞেস করেনি। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জে এম সেন হলের দুর্গাপূজা মণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু নয়, আমাদের সবার পরিচয় বাংলাদেশি।” মুক্তিযুদ্ধের সময় লাখো মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র, বাক্‌স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সহযোদ্ধাদের ধর্মীয় পরিচয় দেখা হয়নি।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ওই বছরের জুলাই-আগস্টে দেশের ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। তখন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি কোন ধর্মের, তা কেউ জানতে চায়নি। অনেকে শহীদ হয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, “এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার, এই দেশ আমাদের সবার। আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই, খ্রিষ্টান হই—যেই হই না কেন, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকটি মানুষ বাংলাদেশি।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য এবং রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল শান্তিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়া।

কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সবার সহযোগিতা ছাড়া প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

জে এম সেন হলের অনুষ্ঠান শেষে নগরের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের পাশাপাশি সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

Leave A Reply


Math Captcha
8 + 2 =