Thursday, October 22

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধ, জমিজমা কিংবা পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধকে ধর্মীয় হামলা হিসেবে প্রচার করে অপপ্রচারের চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সব ধর্মের মানুষের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম সাংবিধানিক দায়িত্ব। চলমান দুর্গাপূজা যেভাবে উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসবও একইভাবে শান্তিপূর্ণ ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, আগামী ২৫ অক্টোবর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মাসব্যাপী চলবে কঠিন চীবর দান উৎসব। এসব আয়োজন ঘিরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যের সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের স্বাধীন ও নিরাপদে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন এবং উপাসনার অধিকার রয়েছে। সরকার নাগরিক অধিকার ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে ফানুস ওড়ানোসহ বিভিন্ন আয়োজন ঘিরে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান এবং পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুর অঞ্চলে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব এলাকায় যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চলমান দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ও অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সভায় বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য, সংযম, মন ও চেতনার শুদ্ধি, ফানুস ওড়ানো এবং কঠিন চীবর দানের ঐতিহ্য তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, সারা দেশের বৌদ্ধবিহারগুলোর তালিকা মন্ত্রীর কাছে দেওয়া হবে। তালিকা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তা পাঠানো হবে বলে জানান মন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, ধর্মীয় নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 71 = 72