Saturday, October 10

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আড়াই বছরের শিশু ওয়াক্কুরুনি ইসলামকে বিষ প্রয়োগে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তার সৎমা আকলিমা বেগম। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ময়মনসিংহের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

শিশুটিকে নিয়ে বিরক্তি থেকেই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আকলিমা। গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের বীরপুর গ্রামে শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার শিশুটির মা শেফালী বেগম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটির বাবা আব্দুল কাদির ও সৎমা আকলিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়।

ডিম ও পানি খাওয়ানোর পর অসুস্থতা

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে আকলিমা শিশুটিকে সিদ্ধ ডিম ও পানি খাওয়ান। এরপর গোসল করিয়ে ঘুম পাড়ানোর কথা বলে বিছানায় শুইয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর শিশুটি অস্বাভাবিকভাবে কাশতে শুরু করলে তার দাদি আছিয়া আক্তার শব্দ শুনে ঘরে ছুটে যান।

দাদির ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে কোলে করে বাইরে আনার পর তার মুখ থেকে তীব্র বিষের গন্ধ পাওয়া যায়। পরে শিশুটির চাচারা বিষয়টি তার বাবা আব্দুল কাদিরকে জানান। শিশুটিকে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সন্তান হারিয়ে বিচার দাবি মায়ের

শিশুটির মা শেফালী বেগম অভিযোগ করেন, আব্দুল কাদিরের সঙ্গে ১৫ বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দেনা শোধ করতে তিনি ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। তাঁর অভিযোগ, কাদির আকলিমাকে বিয়ে করার পর তাঁদের সন্তানদের প্রতি অবহেলা করা হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শেফালী বেগম বলেন, তাঁর অবুঝ সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁকে না জানিয়ে সৎমাকে আসল মা পরিচয় দিয়ে হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে গোপনে দাফনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সন্তান হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন শেফালী।

বাবার দাবি, খবর পেয়ে হাসপাতালে নেন

গ্রেপ্তার আব্দুল কাদিরের দাবি, ঘটনার দিন ছেলেকে সুস্থ দেখে ও তার সঙ্গে খেলাধুলা করে তিনি খড় আনতে ঢালিয়া বিলে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় ছেলের বিষ খাওয়ার খবর পেয়ে দ্রুত ফিরে আসেন এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

শিশুটির দাদি আছিয়া বেগম বলেন, নাতির তীব্র কাশির শব্দ শুনে ঘরে গিয়ে দেখেন, সৎমা তাকে নিয়ে শুয়ে আছেন। শিশুটিকে বাইরে আনার পর তার মুখ থেকে বিষের গন্ধ পান বলে দাবি করেন তিনি।

শিশুটির বড় চাচা মতিউর রহমান বলেন, কাদিরের প্রথম স্ত্রী ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁর দাবি, কাদিরের দ্বিতীয় বিয়ের পর পারিবারিক বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনার দিন মসজিদে নামাজ পড়ার সময় চিৎকার শুনে বাড়িতে এসে তিনি শিশুটির মুখ থেকে বিষের গন্ধ পান।

এ ঘটনায় বাবা ও সৎমা দুজনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 86 = 90