Friday, November 6

যুদ্ধের আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি ইরানে। এর মধ্যেই নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ফিরতে শুরু করেছে শিশুরা। তবে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের মিনাবসহ কয়েকটি প্রদেশে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস প্রথম দুই সপ্তাহ অনলাইনে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর প্রথম দিনেই দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের শাজারেহ-ই তাইয়্যেবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে হামলা হয়। ওই ঘটনায় অন্তত ১২০ শিশু ও ৩৫ প্রাপ্তবয়স্ক নি’হত হন বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।

এরপর ইরানের সব স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দীর্ঘ সময় অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীরা আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরতে শুরু করলেও মিনাবসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় পুনরায় হামলার আশঙ্কায় প্রথম দুই সপ্তাহ অনলাইনেই ক্লাস নেওয়া হবে।

মিনাবের ধ্বংস হয়ে যাওয়া ওই স্কুলের জায়গায় নতুন ভবন তৈরি করা হয়েছে। তবে সেখানে এখনো স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরেনি। নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ের জন্য স্কুলে যাচ্ছে এবং যুদ্ধের স্মৃতি তাদের মধ্যে এখনো প্রভাব ফেলছে।

যুদ্ধের সময় সন্তানদের স্কুল থেকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার অভিজ্ঞতা এখনো অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে। তেহরানের ১১ বছর বয়সী এক শিশুর বাবা মেইসাম আল জাজিরাকে বলেন, যুদ্ধ আবার শুরু হলে স্কুল থেকে সন্তানকে নিয়ে আসার জন্য তাকে কত দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে পারবেন—এই চিন্তা তাকে এখনো উদ্বিগ্ন করে।

মিনাবের শিক্ষক ফারামার্জ ওই হামলায় স্ত্রী ও এক সন্তানকে হারিয়েছেন। তিনি বলেন, চার সদস্যের পরিবারের অর্ধেক এখন আর নেই। স্কুল খুললেও তার জীবন আর আগের মতো হবে না।

ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় দেশটির ১ হাজার ২৮৮টি স্কুল সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অনেক স্কুল মেরামত করা হয়েছে এবং নতুন শ্রেণিকক্ষও তৈরি করা হয়েছে।

দীর্ঘ সময় অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক এবং নিয়মিত পড়াশোনার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। একজন শিক্ষক জানান, গত শিক্ষাবর্ষের নয় মাসের মধ্যে চার মাস অনলাইনে ক্লাস হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগাযোগে প্রভাব পড়েছে।

শিক্ষকদের আশঙ্কা, শিক্ষা কার্যক্রম আবার দীর্ঘ সময় অনলাইনে চলে গেলে ইন্টারনেট সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে পড়তে পারে।

Leave A Reply


Math Captcha
87 − 86 =