জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে পাকিস্তানের সমালোচনা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিক চর্চাকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হলে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ নেই। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আগের দিনের পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন জয়শঙ্কর। তবে তিনি বক্তব্যে সরাসরি পাকিস্তান বা শেহবাজ শরিফের নাম উল্লেখ করেননি।
জয়শঙ্কর বলেন, আগের দিন একজন ‘সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিক চর্চাকারী’ জাতিসংঘে তথ্য বিকৃত করে উপস্থাপন করেছেন। সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখানোর এবং এর পরিণতি থেকে দায়মুক্তি পাওয়ার যুক্তিও দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবে। তাঁর ভাষ্য, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সদিচ্ছা একসঙ্গে চলতে পারে না। সন্ত্রাসবাদ বন্ধ হলেই দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
সন্ত্রাসবাদকে শান্তির জন্য দীর্ঘদিনের বড় হুমকি উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, কোনো রাষ্ট্র যদি সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়, তাহলে তা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য সরাসরি হুমকি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনারও আহ্বান জানান তিনি।
সন্ত্রাসবাদের অর্থের উৎস বন্ধ করার ওপরও গুরুত্ব দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন চিহ্নিত করে তা বন্ধ করা এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’কে ‘মিথ্যা অজুহাতে’ চালানো বহিরাগত আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি পাকিস্তানের সামরিক পদক্ষেপকে জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদের অধীনে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রশংসা করেন।
শেহবাজ শরিফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের’ জন্যও ধন্যবাদ জানান। তাঁর বক্তব্যের ওই অংশের ৮৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পরে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পাহালগামে হামলায় ২৬ জন বেসামরিক মানুষ নি’হত হওয়ার পর ভারত ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায়। ভারতের দাবি, পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।
তবে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার দাবির বিষয়ে ভারত ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের মহাপরিচালক (ডিজিএমও) তাঁর ভারতীয় সমকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর ‘অপারেশন সিঁদুর’ বন্ধ করা হয়েছিল।
জাতিসংঘের মঞ্চে দুই দেশের বক্তব্যের পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুটি আবারও আলোচনায় এসেছে।

