রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন নি’হত হয়েছেন। দুই দেশের কর্মকর্তাদের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, রুশ হামলায় ইউক্রেনে চারজন এবং ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়া ও রুশ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ছয়জন নি’হত হয়েছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে রাতভর রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুই নারীর ম’রদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে সুমি শহরে পৃথক রুশ হামলায় আরও দুজন নি’হত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, রাশিয়া প্রতিদিনই উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। রুশ বাহিনী আরও ভয়াবহ হামলা চালালে যুদ্ধ যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনায় দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় তিনজন নি’হত ও দুজন আ’হত হয়েছেন। হামলায় দুটি শিল্প স্থাপনায় আ’গুন ধরে যায়। রুশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে একটি তেল শোধনাগারও ছিল বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে রুশ-নিয়ন্ত্রিত জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের প্রধান ইয়েভগেনি বালিতস্কির দাবি, শনিবার ভোরের আগে ইউক্রেনীয় হামলায় ওই অঞ্চলের রুশ-অধিকৃত অংশে আরও তিনজন নি’হত হয়েছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি পণ্যবাহী জাহাজ এবং ওডেসার একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এর আগে শুক্রবার কিয়েভে রুশ হামলায় সাতজন নি’হত ও ৫৮ জন আ’হত হন। একই হামলার কারণে ইউক্রেনের বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আর্সেলর মিত্তালের একটি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলায় তাদের পাঁচ কর্মী নি’হত হয়েছেন এবং একটি স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার পার্ম ও নোভোশাখতিনস্কের তেল শোধনাগারেও হামলা চালিয়েছে বলে রুশ ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। হামলার পর সেখানে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
পাল্টাপাল্টি এসব হামলা এমন সময় চলছে, যখন ওয়াশিংটনের উদ্যোগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর চেষ্টা চলছে। দুই পক্ষই সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে।

