রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষার্থীর পরিচয় গোপন রাখার ‘কোডিং পদ্ধতি’ চালু করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ পদ্ধতিতে পরীক্ষকের কাছে উত্তরপত্র পৌঁছানোর সময় শিক্ষার্থীর নাম, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য থাকবে না। ফলে পরীক্ষকের পরিচয় না জেনেই খাতা মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের মেধার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং ফলাফল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টার থেকে এ পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
উপ-উপাচার্য বলেন, নতুন পদ্ধতিটি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তার বিস্তারিত প্রক্রিয়া নির্ধারণে মঙ্গলবার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের সঙ্গে সভা হবে। সেখানে কোডিং ব্যবস্থা চালুর কারিগরি ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষার খাতার মলাটে আলাদা দুটি অংশ থাকবে। এক অংশে পরীক্ষার্থীর নাম, রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য থাকবে। অন্য অংশে থাকবে নির্দিষ্ট একটি কোড। পরীক্ষকের কাছে খাতা পাঠানোর আগে পরিচয়সংবলিত অংশটি আলাদা করে নিরাপদে সংরক্ষণ করা হবে।
ফলে পরীক্ষক যে উত্তরপত্রটি মূল্যায়ন করবেন, সেখানে শিক্ষার্থীর নাম বা রোল নম্বরের পরিবর্তে শুধু নির্ধারিত কোড থাকবে। এতে কোনো শিক্ষার্থী সম্পর্কে পরীক্ষকের আগে থেকে জানা তথ্য বা ব্যক্তিগত পরিচয় মূল্যায়নে প্রভাব ফেলার সুযোগ কমবে।
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, মূল্যায়ন শেষ হলে কোডের সঙ্গে সংরক্ষিত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নম্বর নির্ধারণ করা হবে। এরপর নম্বরপত্র প্রস্তুত করে নিয়ম অনুযায়ী ফলাফল প্রকাশ করা হবে।পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য পক্ষপাতের সুযোগ কমিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়ন নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোডিং পদ্ধতি কার্যকর হলে পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা আসবে বলে আশা করছি’।

