Friday, November 6

জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে রাতভর ইরানি হামলায় একাধিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুওয়াফফাক সালতি বা আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমান, যা ‘ওয়ারথগ’ নামে পরিচিত, সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে একটি ডানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ঘাঁটিতে থাকা আরও অন্তত আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দ্রুত মেরামতের পর এসব যুদ্ধবিমান আবার ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিবিএস নিউজের সাংবাদিক জেনিফার জেকবস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান। তার দাবি, হামলা প্রতিহত করতে জর্ডানে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী ৩০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানি বাহিনীর দাবি, মার্কিন বিমানঘাঁটির পাশাপাশি আটটি তেল ট্যাংকার ও দুটি যুদ্ধজাহাজও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে জানা যায়, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে অভিযানটিকে ‘শাস্তিমূলক অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এতে আল-আজরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে ১২টির বেশি জাহাজে হামলা চালানোর দাবিও করেছে ইরান।

অন্যদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কম বলে জানিয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে। এর মধ্যে ১৮টি আকাশেই ধ্বংস করা হয়। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় আঘাত হানে বলে দাবি করেছে জর্ডান।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে মার্কিন বাহিনী ইরানের পাঁচটি তেল ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
57 − 51 =