গাজায় চলমান যুদ্ধের মধ্যেই অধিকৃত পশ্চিম তীর ঘিরে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনী ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার মতো কোনো আক্রমণের প্রস্তুতি নিলে পশ্চিম তীরে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ’ শুরু করার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের শীর্ষ নেতৃত্ব ও কাঠামোকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানো হবে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরের ‘সব সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ ধ্বংসের কথাও বলেছেন তিনি।
সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কাৎজ বলেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ইসরায়েলি সেনা বা ইহুদি বসতিতে ৭ অক্টোবরের মতো হামলা চালালে, অথবা এমন হামলার প্রস্তুতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
কাৎজের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযানের লক্ষ্য হবে রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ‘শীর্ষ নেতৃত্ব ও কাঠামো’। পাশাপাশি যেসব এলাকায় সশস্ত্র কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, সেসব শহর ও গ্রাম থেকেও বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অভিযানের অংশ হিসেবে শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হত্যা এবং নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করা হতে পারে।
কাৎজ জানান, গাজা ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী যেসব তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ অভিযান চালাচ্ছে, পশ্চিম তীরেও সম্ভাব্য সামরিক অভিযান একই ধরনের কাঠামোয় পরিচালিত হতে পারে।
এর আগে অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে এক ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলাকারী এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম জানিয়েছে, ছুরিকাঘাতে আহত ২০-এর কোঠার এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা মাঝারি থেকে গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।
হামলাকারীকে হত্যাকারী সেনাদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, কোনো ‘সন্ত্রাসী’ লুকিয়ে থাকতে পারবে না। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে সশস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংসের অঙ্গীকার করেন তিনি।
এদিকে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থী সংগঠন হামাস প্রতিরোধ আরও জোরদার করার এবং ইসরায়েলি সেনা ও বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল হামলার পর থেকে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলাও বেড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ২২১ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে এএফপির হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে গাজায় ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৬৫১ জন নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়টি হামাস-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনের অধীনে থাকলেও জাতিসংঘ এর পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে।
সূত্র: এএফপি

