Friday, November 6

ভারতের কলকাতার মধ্যাঞ্চলের হোটেল ও গেস্টহাউজগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসার জন্য যাওয়া বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। নিউ মার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিটসহ আশপাশের এলাকায় একের পর এক আবাসিক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকে সাশ্রয়ী আবাসন না পেয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে দূরের এলাকায় থাকছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ফুটপাত বা রাস্তার ধারে রাত কাটাচ্ছেন।

গত ১৯ আগস্ট ভোরে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জন নিহত হন। এ ঘটনার পর কলকাতা পৌরসভা, দমকল বাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে শহরের বিভিন্ন হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তা ও অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখতে অভিযান শুরু করে। নিরাপত্তা ঘাটতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে একের পর এক হোটেল ও গেস্টহাউজ বন্ধ হতে থাকে। এ পর্যন্ত শতাধিক হোটেল ও গেস্টহাউজ বন্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে।

চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া বাংলাদেশিদের কাছে নিউ মার্কেট ও এর আশপাশের এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসনের জায়গা হিসেবে বিবেচিত। এসব হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন তাদের অনেক দূরের এলাকায় যেতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে থাকা-খাওয়ার খরচ ও যাতায়াতের ভোগান্তি।

দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে যাওয়া ক্যানসার রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। কলকাতার ঠাকুরপুকুরের সরোজ গুপ্তা ক্যানসার সেন্টারসহ বিভিন্ন হাসপাতালে কেমোথেরাপি, রেডিয়েশনসহ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য রোগীদের দিনের পর দিন শহরে থাকতে হয়। প্রতিদিন দূরের আবাসন থেকে হাসপাতালে যাতায়াত করা অনেক রোগী ও স্বজনের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন হলেও বিকল্প সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা না করে একযোগে বিপুলসংখ্যক হোটেল বন্ধ করে দেওয়ায় রোগী ও তাদের স্বজনদের সংকট আরও বেড়েছে। শুধু বাংলাদেশি নয়, পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা রোগীরাও একই সমস্যায় পড়ছেন।

পরিস্থিতি বিবেচনায় কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনও নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে। শুক্রবার এক পরামর্শে কলকাতায় আসার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করে আসতে বাংলাদেশি নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
86 − 80 =