Friday, November 6

নেপালের আকস্মিক বন্যার পর এখনো নিখোঁজ রয়েছে প্রায় ৬০০ শিশু। গত ২৬ আগস্ট ভোতে কোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় ধ্বংস হয়েছে বসতবাড়ি, স্কুল ও যোগাযোগব্যবস্থা। এর মধ্যেই বহু শিশুর কোনো সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ বাড়ছে পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে।

স্থানীয় শিক্ষা উন্নয়ন ও সমন্বয় ইউনিট, স্থানীয় সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়া জেলায় প্রায় ২৮০ শিশু নিখোঁজ রয়েছে। পাশের নুয়াকোটে নিখোঁজ শিশুর সংখ্যা ৩০০ থেকে ৩৫০ জনের মধ্যে। ফলে দুই জেলায় নিখোঁজ শিশুর মোট সংখ্যা প্রায় ৬০০ থেকে ৬৩০ জনে দাঁড়িয়েছে।

নুয়াকোট শিক্ষা উন্নয়ন ও সমন্বয় ইউনিটের প্রধান সূর্য বাহাদুর খাত্রি জানান, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাই করতে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে বন্যায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েকজন নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধান মিললেও বিভিন্ন স্কুল থেকে নতুন করে শিক্ষার্থী নিখোঁজের তথ্য আসছে।

রাসুয়ার স্থানীয় শিক্ষা ইউনিটের প্রধান দুর্গা প্রসাদ সিলওয়াল বলেন, জেলায় ২৮০ শিক্ষার্থী নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবকাঠামো ও দুর্গম পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়ছে। ফলে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

নুয়াকোটের বিদুর পৌরসভাতেই প্রায় ২৫০ শিশু নিখোঁজ রয়েছে। পৌরসভার শিক্ষা ইউনিটের স্কুল পরিদর্শক নবরাজ সাপকোটা বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। কোথাও জীবিত বাবা-মা সন্তানকে খুঁজছেন, আবার কোথাও বেঁচে যাওয়া সন্তানরা নিখোঁজ বাবা-মায়ের সন্ধান করছে।

শুধু শিক্ষার্থী নয়, দুই জেলায় এখন পর্যন্ত ২২ শিক্ষক ও স্কুলকর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে শিক্ষা ইউনিটগুলো। এ ছাড়া ধাদিং ও গোরখার কয়েকজন শিক্ষক গোসাইনকুণ্ড তীর্থযাত্রায় রাসুয়ায় গিয়ে বন্যায় আটকা পড়েছেন। তাদেরও এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর অবস্থাও ভয়াবহ। বিদুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরগয়া পাবলিক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক সোমলাল লাওয়াত জানান, তাদের স্কুলের কোনো কিছুই প্রায় অবশিষ্ট নেই। পুরো এলাকা এখন নদীর পাড়ের মতো হয়ে গেছে। তার ভাষায়, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে যেন মানুষকে পাথর যুগে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্কুলটির দুটি বাসই বন্যার পানিতে ভেসে যায়। এর একটি বাস থেকে ৩০ শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মোট ৩৬২ শিক্ষার্থীর মধ্যে বাকিদের কী হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অনেক অভিভাবকও নিখোঁজ থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাসুয়ার উত্তরগয়া গ্রামীণ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নীলকণ্ঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও একই চিত্র। বিদ্যালয়টির ৪৯৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০০ জন এবং চারজন কর্মী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাধব লামিছানে জানান, ক্লাস শুরুর আগেই বন্যা আঘাত হানে। তখন কেউ স্কুলে আসছিল, কেউ স্কুলের গাড়ির অপেক্ষায় ছিল, আবার অনেকে বাড়িতেই ছিল। স্কুলে পৌঁছে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদে উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হলেও দুই মাধ্যমিক শিক্ষক, একজন স্কুল নার্স ও একজন প্রারম্ভিক শিশু উন্নয়ন প্রশিক্ষক বন্যায় আটকা পড়েন।

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে গত ২৬ আগস্ট আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। হিমবাহের বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে সৃষ্ট ঢলে নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিংসহ কয়েকটি এলাকা এবং তিব্বতের সীমান্তবর্তী অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পর বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

Leave A Reply


Math Captcha
50 − = 44