Friday, November 6

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিন পিয়াচেন্টি। এ ঘটনায় আরও এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরে পুলিশের গুলিতে হামলাকারী নারীও নিহত হন। খবর এনডিটিভির।

কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিহত এরিন পিয়াচেন্টির বয়স ৩২ বছর। তিনি সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফিরেছিলেন এবং সদ্যোজাত এক সন্তানের মা ছিলেন।

ব্যাংক অব আমেরিকা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের সহকর্মীর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং মর্মাহত।’

লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে স্নাতক করা পিয়াচেন্টি ব্যাংক অব আমেরিকার বিজনেস সিলেকশন অ্যান্ড কনফ্লিক্টস ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফোর্ডহ্যাম ল স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিষ্ঠানটি থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০২১ সালে স্বামী ফ্রাঙ্ক পিয়াচেন্টির সঙ্গে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুলও।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মাত্র চার দিন আগে পিয়াচেন্টি সদ্যোজাত সন্তান ও স্বামীর সঙ্গে হাসিমুখের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি ব্যাংক অব আমেরিকা থেকে পাঁচ মাসের ছুটি পাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। একই পোস্টে সন্তানের নামকরণ সম্পন্ন হওয়ার কথা জানান তিনি। স্বামীর সঙ্গে তাদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীও সম্প্রতি পার হয়েছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৩১ আগস্ট) নিউইয়র্কের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন ও থিয়েটার এলাকা টাইমস স্কয়ারে এক নারী হঠাৎ করে পিয়াচেন্টিকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। পুলিশ ঘটনাটিকে আকস্মিক ও উসকানিবিহীন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এ ঘটনায় ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিও আহত হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরদিন মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পুলিশ হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করে। তার নাম পামেলা সিসনেরোস, বয়স ৪৯ বছর এবং তিনি কুইন্সের বাসিন্দা। ছুরিকাঘাতের পর পুলিশের গুলিতে সিসনেরোস নিহত হন।

পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, সিসনেরোস তিন সন্তানের মা ছিলেন এবং মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তার মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনায় পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। তবে নিউইয়র্ক সিটিতে তার কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।

সিসনেরোসের ভাই প্যাট্রিক পেরালতা সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার বোন কয়েক দশক ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন, তবে কখনো আগ্রাসী ছিলেন না। তিনি নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন এবং গত কয়েক বছর তুলনামূলক ভালো ছিলেন। মাঝেমধ্যে আইনি অফিসেও কাজ করতেন তিনি।

পেরালতা জানান, গত মাসের শুরুতে এক আত্মীয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তিনি শেষবার বোনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এরপর সোমবার টাইমস স্কয়ারে হামলার খবর দেখে তিনি জানতে পারেন তার বোনের মৃত্যুর কথা।

নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত ও কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায়, একটি পুলিশ স্টেশনের কাছেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে গত মে মাসেও একই এলাকায় এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছিল।

Leave A Reply


Math Captcha
48 + = 56