ভয়াবহ বন্যায় আটকে পড়ার পাঁচ দিন পর প্রিয়জনদের কাছে ফিরেছেন নেপালের বারদিয়ার ২৩ শ্রমিক। রোববার বাড়ি ফেরেন তারা। তাদের কেউ দুই রাত কাটিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে, আবার কেউ টানেলে ঢুকে পড়া কাদামিশ্রিত পানির ভয়াবহ স্রোত থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন।
ফেরত আসা শ্রমিকদের একজন বারবারদিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৩৮ বছর বয়সী কৃষ্ণ প্রসাদ চৌধুরী। বন্যার দিন অন্যের ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে বেঁচে থাকার খবর দিয়েছিলেন তিনি। এরপর কয়েক দিন তাঁর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
রোববার রাতে কৃষ্ণ বাড়ি ফেরার পর স্বস্তি ফিরে আসে তাঁর স্ত্রী বিমার মনে। তিনি বলেন, ‘রাসুয়ার ভয়াবহ বন্যার খবর আমাদের আতঙ্কিত করে তুলেছিল। আমার স্বামী অন্য একজনের ফোন থেকে কল করে জানান, তিনি অল্পের জন্য বন্যার হাত থেকে বেঁচেছেন। এরপর তাঁর নিজের ফোনে আর যোগাযোগ করতে পারিনি। এতে আমি খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি।’
জুলাইয়ের শেষ দিকে পরিবারের জন্য বাড়তি আয় করতে আপার ত্রিশূলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে রাসুয়ায় গিয়েছিলেন কৃষ্ণ। বুধবার সকালে চীনা এক দলনেতার নেতৃত্বে ১৫ নেপালি শ্রমিক টানেল পরিষ্কারের কাজে প্রবেশ করেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাইরে থাকা এক চীনা কর্মী ওয়াকিটকিতে টানেলের দিকে বন্যার পানি আসার খবর দেন।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে শ্রমিকেরা দ্রুত টানেল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। একটি কোম্পানির গাড়িতে করে তাদের বাইরে আনার পরপরই টানেলের ভেতরে ঢুকে পড়ে পানির বিশাল ঢল। কৃষ্ণ পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উঠে প্রাণে বাঁচেন। পরে দুই রাত খোলা আকাশের নিচে কাটানোর পর হেলিকপ্টারে করে তাদের নুওয়াকোটে নেওয়া হয়।
আরেক শ্রমিক ৪৬ বছর বয়সী জগত রাম চৌধুরী জানান, হঠাৎ কাদামিশ্রিত পানির ভয়াবহ স্রোত টানেলের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তখন গামবুট খুলে একটি ছোট ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন তিনি। এভাবেই প্রাণে বেঁচে যান। তবে তাঁর এক সহকর্মী টানেল থেকে বের হতে পারেননি।
বন্যার পানিতে শ্রমিকদের ক্যাম্পও পুরোপুরি মাটির নিচে চাপা পড়ে। বাড়ি ফেরার পথেও বিপদ কাটেনি। নাওয়ালপুরে ২৩ শ্রমিককে বহনকারী একটি বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে ১৯ জন আহত হন।
তবে বারদিয়ার আরও ৭৮ জনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে বের করতে সরকারের উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
নেপালে আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত এক হাজার ৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ১২ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো প্রায় চার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

