ভারতের শিক্ষার্থীদের দাবিকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত প্রতিবাদ মিছিল বন্ধের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রস্তাবিত মিছিল বন্ধের আবেদন খারিজের পাশাপাশি প্রতিবাদকারী ও প্রশাসন—দুই পক্ষকেই শান্তিপূর্ণভাবে এবং আইন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে ইন্ডিয়া গেট থেকে দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তর পর্যন্ত মিছিল করার কথা জানিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। নিট পরীক্ষায় অনিয়ম, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ একাধিক দাবিতে এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্র সংগঠনটি।
তবে মিছিলটি নিষিদ্ধ করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন দিল্লি পুলিশের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। তার আশঙ্কা ছিল, দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আগে বড় ধরনের জমায়েত হলে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আবেদনটি শুনানি শেষে তা খারিজ করে দেন। আদালত বলেন, মিছিল থেকে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবেই—এমনটা ধরে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। তাই আগাম নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা মূলত সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি সরকারকে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি আশা প্রকাশ করেন, আন্দোলনকারী ও প্রশাসন উভয় পক্ষই দায়িত্বশীল নাগরিকের মতো আচরণ করবে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আবেদনকারী আবারও আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে।
নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই ছাত্র আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর সরকারের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে গত ২৫ জুলাই কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছিল ছাত্র সংগঠনটি।
তবে আন্দোলন প্রত্যাহারের আগে কেন্দ্রীয় সরকার দেওয়া প্রতিশ্রুতির কয়েকটি এখনো পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আন্দোলনের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জবাবদিহির দাবি পূরণ হয়নি বলে তারা অভিযোগ করছে।
সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হবে। নিট-সংক্রান্ত অনিয়মের জেরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবার এবং জুলাইয়ের আন্দোলনে পুলিশের হাতে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা ব্যক্তিরা মিছিলে নেতৃত্ব দেবেন।

