Friday, November 6

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার অনুরোধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালত নেবে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা হবে, বাংলাদেশের আনা অভিযোগগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, আদালতের প্রক্রিয়ায় মূলত যাচাই করা হবে—শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ কি না।

আরেক ভারতীয় কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের মাস হওয়ায় তিনি ওই মাসেই দেশে ফিরতে চান।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনের পর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। আন্দোলন দমনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপরও নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানানো হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বিষয়টি তাদের প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হলে তা জানানো হবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পাঠানো প্রত্যর্পণ অনুরোধের সঙ্গে ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র সংযুক্ত রয়েছে।

প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যদের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, দিল্লিতে ভারত সরকারের নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি স্থানে অবস্থান করে শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। মাঝে মাঝে তিনি সরাসরি বৈঠকও করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রত্যর্পণ চুক্তিতে যা বলা আছে

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তিতে আদালত কর্তৃক ঘোষিত সাজা কার্যকর করার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ রয়েছে।

চুক্তিতে প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের বিচারিক কর্তৃপক্ষের ভূমিকার কথাও বলা হয়েছে। তবে চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধ প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে থাকতে পারে।

অন্যদিকে, খুন, নরহত্যা, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং খুনে প্ররোচনাসহ কয়েক ধরনের অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য না করার বিধান রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনও গুরুত্বপূর্ণ। ওই আইনে পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে।

মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্ত পূরণ হয়েছে বলে মনে করলে একজন তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে। তদন্ত শেষে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রত্যর্পণের পক্ষে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি হস্তান্তরের সুপারিশ করতে পারেন। বিপরীতে, দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রাথমিক প্রমাণ না পাওয়া গেলে আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 9 = 1