Friday, November 6

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
স্পেনের উত্তর আফ্রিকান অঞ্চল সিউটা ও মরক্কো সীমান্তে ব্যাপক সংখ্যক অভিবাসীর অনুপ্রবেশের চেষ্টার পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে স্প্যানিশ সরকার। সীমান্তবর্তী সমুদ্র এলাকায় ৫০০ মিটার (প্রায় ১,৬০০ ফুট) দীর্ঘ একটি প্রতিরোধক প্রাচীর নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার অভিবাসী সিউটা সীমান্ত অতিক্রম করে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। শনিবার (২ আগস্ট) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে জানানো হয়, এ ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬৭ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে অনেকে পানিতে ডুবে এবং অনেকে সীমান্তের প্রতিবন্ধক পার হতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মারা গেছেন।

শনিবার সকালে সাঁতরে সিউটার তারাজাল সৈকতে পৌঁছানো ক্লান্ত অভিবাসীদের আটক করে স্প্যানিশ সেনাবাহিনী। পরে তাদের মরক্কো সীমান্তে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা অধিকাংশ ব্যক্তিকেই ইতোমধ্যে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সিউটা সফরকালে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা বলেন, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও বলেন, মরক্কো স্পেনের জন্য কোনো হুমকি নয়; বরং দুই দেশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

কয়েক দিনের অস্থিরতার পর সিউটায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও জনজীবন এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সিউটার প্রেসিডেন্ট হুয়ান হেসুস ভিভাস বলেন, সীমান্ত সংকট শহরের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তিনি।

অন্যদিকে সীমান্ত থেকে ফিরে আসা মানুষের চাপে মরক্কোর তাঞ্জিয়ার রেলস্টেশন ও ফনিদেক এলাকার সড়কে মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। সীমান্তে কড়া পুলিশি নজরদারি এবং খাদ্যসংকট থাকা সত্ত্বেও অনেক অভিবাসী সিউটায় প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন এবং সেখানে অবস্থান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

Leave A Reply


Math Captcha
60 − 53 =