Friday, November 6

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া তিন লাখ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আরও পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে দেশটি। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে মিয়ানমার বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ এবং মালয়েশিয়া থেকে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।

তিনি বলেন, “মিয়ানমারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আলোচনার মাধ্যমেই আমরা এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছি। এমন সংকট সমাধানে সতর্ক ও বিচক্ষণ কূটনীতির বিকল্প নেই।”

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর দাবি উঠলেও মিয়ানমার তাদের গ্রহণে অনাগ্রহী ছিল। ফলে মালয়েশিয়া সরকারকে শরণার্থীদের জন্য অস্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “অনেকে বলেন, তাদের ফেরত পাঠানো হোক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোথায় পাঠানো হবে? এতদিন মিয়ানমার তাদের নিতে রাজি ছিল না। এখন পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে।”

এদিকে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা সহ্য করা হবে না।

তিনি জানান, জনসমাগমস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দেশটির পুলিশ মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “আমি চাই না রোহিঙ্গারা সড়ক বা জনসমাগমস্থলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করুক। এটি মালয়েশিয়া। তারা যদি জনগণের জন্য সমস্যা তৈরি করে, তাহলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

মালয়েশিয়া সরকার রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতি স্থানীয় আইন-কানুন মেনে চলার এবং সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের কক্সবাজারসহ বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে প্রায় ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহল রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। মিয়ানমারের এ সম্মতি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 38 = 41