Friday, November 6

ভারতে প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন দমনে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তিনি বলেছেন, সরকারের জবাবদিহির অভাব এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল কারণ।

এক বিবৃতিতে সোনিয়া গান্ধী অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার বিভিন্ন গণআন্দোলনের ক্ষেত্রে আলোচনার পরিবর্তে বারবার বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে।

তিনি বলেন, “মোদি সরকার আলোচনার বদলে বারবার বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেয়। কৃষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলনকারী—সব ক্ষেত্রেই একই চিত্র দেখা গেছে।”

সোনিয়া আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর পরিবর্তে তাদের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তার ভাষায়, “শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও দাবি শোনার পরিবর্তে সরকার দমনমূলক আচরণ করছে। এই আচরণ ক্ষমার অযোগ্য এবং মানুষ তা ভুলবে না।”

শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটই আন্দোলনের কারণ

সোনিয়া গান্ধীর মতে, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিশ্চয়তা, প্রশ্নফাঁস এবং নীতিগত ব্যর্থতার কারণেই শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ স্বাভাবিক, কারণ তারা একটি হতাশাজনক শিক্ষাব্যবস্থার মুখোমুখি।

মোদির নতুন আশ্বাস

অন্যদিকে, প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁস রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে।

এর আগে একই দিনে মোদি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান চালুর ঘোষণা দেন।

ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুতর বিষয়।”

তিনি আরও জানান, গত আড়াই মাসে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফল প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আন্দোলন অব্যাহত

প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করলেও কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করছে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Leave A Reply


Math Captcha
7 + 3 =