মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানি হামলার জবাব এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি মোকাবিলায় এ হামলা চালানো হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় অনুযায়ী এই সামরিক অভিযান শুরু হয়। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন সেনাসদস্য।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ইউনিটগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকায় হামলা হলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করে সংঘাত আরও উসকে দিচ্ছে। এর জন্য ওয়াশিংটনকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে এবং ইরান এমন জবাব দেবে, যা তারা ভুলতে পারবে না।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিহত সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ যুক্তরাষ্ট্রের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।
উল্লেখ্য, এক মাস আগে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

