আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কোটি কোটি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছানোর পাশাপাশি আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (National Weather Service) সতর্ক করে বলেছে, ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসের ছুটিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন, ফিলাডেলফিয়া ও নিউইয়র্কসহ বড় শহরগুলোতে বিপজ্জনক মাত্রার গরম অনুভূত হবে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বাতাসের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সমন্বয়ে তৈরি হওয়া হিট ইনডেক্স মানুষের শরীরে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও বেশি গরম অনুভব করাবে।
এই তাপপ্রবাহ এমন সময় আঘাত হেনেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজন চলছে এবং খোলা মাঠে বিশ্বকাপ ফুটবলের একাধিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে বাইরে বিপুল মানুষের সমাগমে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ ‘হিট ডোম’। এটি একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয়, যা দীর্ঘ সময় একটি অঞ্চলের ওপর স্থির থাকে। এর ফলে আকাশ পরিষ্কার থাকে, সূর্যের তাপ আটকে যায় এবং গরম বাতাস বের হতে পারে না। পাশাপাশি অনেক এলাকায় মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় তাপমাত্রা আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালেই ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্কে তাপমাত্রা প্রায় ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছে যায়। পরে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে তা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে ওঠে। আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট, যা গত ১৫ বছরের অন্যতম উষ্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে খোলা জায়গায় বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা বজায় রেখেছেন। তবে অতিরিক্ত গরম ও জনসমাগমের ঝুঁকি বিবেচনায় ওয়াশিংটনের অনুষ্ঠানের মহড়ায় শুধুমাত্র জরুরি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে ক্যাপিটল পুলিশ।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এলাকায় টানা চার দিন ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে, যা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। একই সঙ্গে প্রতিবেশী কানাডার অন্টারিওতে তাপমাত্রা ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। কুইবেক প্রদেশের মন্ট্রিয়ল ও কুইবেক সিটিসহ বিস্তীর্ণ এলাকায়ও তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী উচ্চচাপ বলয়ের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনও এ ধরনের তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও ঘনত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে। শিল্প যুগের পর থেকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাওয়ায় এখন আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিনে কিছু এলাকায় বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা থাকলেও সপ্তাহের শেষ দিকে উত্তর দিক থেকে শীতল বাতাস প্রবেশ করলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

