Friday, November 6

নিউজ:
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আট দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী নিরাপত্তারক্ষী হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস। বৃহস্পতিবার ভোরে দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা।

গত ২৪ জুন উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরার গালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে শপিং সেন্টার ধসে পড়ার পর ভবনের বেইসমেন্টে আটকা পড়েন গিল ফ্লোরেস। ধুলাবালিতে ঢাকা অবস্থায় তাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয়। সফল এই উদ্ধার অভিযানে উপস্থিত উদ্ধারকর্মীরা হাততালি ও উল্লাসে মেতে ওঠেন।

উদ্ধারকারী দল জানায়, গত সপ্তাহান্তে প্রথমবারের মতো গিল ফ্লোরেসের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়। এরপর টানা ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সুড়ঙ্গ তৈরি করে তার কাছে পৌঁছাতে কাজ করেন তারা। অস্থিতিশীল ভবন, একের পর এক আফটারশক এবং ভারী বৃষ্টির কারণে অভিযান ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে থাকা অবস্থায় সরু একটি ছিদ্র দিয়ে নিয়মিত খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এতে তিনি পানিশূন্যতা এড়িয়ে বেঁচে থাকতে সক্ষম হন। উদ্ধারকারীদের ভাষ্য, প্রথম ভূমিকম্পের সময় নিজের নিরাপত্তাকক্ষে থাকায় সেটি পুরোপুরি ধসে পড়েনি এবং সেখানে পর্যাপ্ত বাতাস থাকায় তিনি বেঁচে যান।

গিল ফ্লোরেসের স্ত্রী গুসবিমার গনসালেস বলেন, কয়েক দিন স্বামীর কোনো খোঁজ না পেয়ে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। পরে উদ্ধারকর্মীরা জীবিত থাকার খবর দিলে নতুন করে আশার আলো দেখেন। এই দম্পতির আট ও দশ বছর বয়সী দুই সন্তান রয়েছে।

চিলির দমকল বাহিনীর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, মেক্সিকো, কোস্টারিকা, এল সালভাদর ও ভেনেজুয়েলার বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। আধুনিক দূরনিয়ন্ত্রিত ক্যামেরা ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক গিল ফ্লোরেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয় এবং তাকে মানসিকভাবে সাহস জোগানো হয়।

উল্লেখ্য, ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী ডাবলেট ভূমিকম্পে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১১ হাজারের বেশি আহত হন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যেই আট দিন পর জীবিত উদ্ধার হন হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 10 = 20