আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী টানা তিন রাত ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে দেশটির রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে পারাপারে সহায়তা করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।
বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব দাবি করেন।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ইরানের রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে এবং বর্তমানে দেশটির কার্যকর কোনো রাডার অবশিষ্ট নেই। তিনি দাবি করেন, ইরান সম্প্রতি একটি আধুনিক রাডার ব্যবস্থা স্থাপন করলেও গত সপ্তাহে সেটিও ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে দেশটিকে নতুন করে প্রতিরক্ষা অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে পরিচালিত নৌঅভিযান সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, এটি শুধু অবরোধ নয়, বরং ছিল একটি ‘ইস্পাতের দেয়াল’। তার দাবি, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনীর অভিযানের কারণে একটি জাহাজও ইরানে পৌঁছাতে পারেনি।
ইরানের অর্থনীতি নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, দেশটির মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ইরান কার্যত কোনো আয় করতে পারছে না।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য রপ্তানির আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ইরানের ভুট্টা, গম ও সয়াবিনের প্রয়োজন রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকেরা সরবরাহ করতে পারবেন বলে তিনি আশা করেন।
ইরান আগের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে—এমন কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তার দাবি, ইরানের সামরিক বাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের অনেকেই নিহত হয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ না করার কারণ ব্যাখ্যা করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে প্রণালিটি বন্ধ করতে পারত। তবে তা হলে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ থেকে ২১ শতাংশ ব্যাহত হতো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৩৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত।
তিনি আরও দাবি করেন, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় দেড় মাস ধরে তেলবাহী জাহাজগুলোকে রাতের অন্ধকারে, কোনো আলো না জ্বালিয়ে উপকূলঘেঁষা নিরাপদ পথ দিয়ে চলাচল করানো হয়েছে। এক রাতে মার্কিন নৌবাহিনী ২২টি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার করে দিয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এসব বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

