Friday, November 6

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭১৯ জনে পৌঁছেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ও নিখোঁজ হাজারো মানুষকে উদ্ধারে এখনো জোরালো অভিযান চলছে।

ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের নেতা জর্জ রদ্রিগেজ রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে জানান, ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি ভূমিকম্পে আহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ১৫ হাজার ৮৬৬ জন মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

উদ্ধার অভিযান চলাকালে সোমবার দেশটিতে ৪ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি আফটারশক অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ১০ কিলোমিটার গভীরে উৎপত্তি হওয়া এ কম্পনের কেন্দ্র ছিল ক্যারিবীয় উপকূলীয় শহর কারাবালেদার উত্তরে। তবে নতুন এ কম্পনে অতিরিক্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন জর্জ রদ্রিগেজ।

রাজধানী কারাকাসের বাসিন্দারা নতুন কম্পনের পর আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা কনসেপসিয়ন হার্নান্দেজ বলেন, “আমরা আবারও রাস্তায় নেমে এসেছি। সত্যিকারের শান্তির মুহূর্ত কবে আসবে, জানি না।”

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো মূলত উত্তরাঞ্চলের বন্দরনগরী লা গুয়াইরাকে কেন্দ্র করে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত দেশটির সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এই এলাকায়।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, এখনো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে প্রায় ৩০ হাজার দেশীয় জরুরি সেবাকর্মী এবং ২ হাজার ৭০০ বিদেশি বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন।

ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও রোববার কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ কারণে উদ্ধারকাজ বন্ধ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ।

সরকার জানিয়েছে, ২৪টি দেশ ভেনেজুয়েলাকে সহায়তা দিচ্ছে। এসব দেশের পক্ষ থেকে ৫০০ টনের বেশি ত্রাণসামগ্রী, ২ হাজার ৭০০ উদ্ধারকর্মী এবং অনুসন্ধানী কুকুরসহ ৮৬টি বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে জানান, ভেনেজুয়েলা, মেক্সিকো ও এল সালভাদরের যৌথ অভিযানে লা গুয়াইরার একটি ধসে পড়া ভবন থেকে ২১ বছর বয়সী অ্যারন লেভিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি টানা ১০৬ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিলেন।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধীরে ধীরে পানি, খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাতে শুরু করেছে। তবে হাজারো মানুষ এখনো ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

Leave A Reply


Math Captcha
48 + = 56