রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ভিডিও বার্তায় প্রাণ বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছেন দুই বাংলাদেশি যুবক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তারা দেশে ফিরতে সরকারের সহায়তা এবং দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
ভিডিওতে এক যুবক অপরজনকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে জানান, তার নাম মাইনুদ্দিন এবং তার বাড়ি চাঁদপুরে। তবে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, আমাদের বাঁচান। চেষ্টা করেন আমাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার। যেকোনো সময় আমাদের ফ্রন্টলাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। আমরা যে কোনো মুহূর্তে মারা যেতে পারি।”
তাদের দাবি, ড্রোন হামলা, গ্রেনেড বিস্ফোরণ কিংবা মাইনে পা পড়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছেন তারা।
ভিডিও বার্তায় আরও বলা হয়, “আমরা এভাবে মরতে চাই না। আমরা চাই মৃত্যুর পর আমাদের জানাজা হোক। যুদ্ধক্ষেত্রে অজ্ঞাতভাবে পড়ে থাকতে চাই না।”
তারা জানান, প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশি একসঙ্গে কাজের আশায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে একটি এজেন্সির মাধ্যমে তাদের দুই রুশ নাগরিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে।
ভিডিওতে তারা বলেন, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের দুটি আলাদা ক্যাম্পে ভাগ করে রাখা হয়। কয়েক দিনের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ শেষে পাঁচ-ছয়জন করে বিভিন্ন ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়।
তাদের দাবি, একসঙ্গে যাওয়া ৩০ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ জন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে মাত্র চারজন জীবিত আছেন এবং তারাও আহত অবস্থায় রয়েছেন।
ভিডিওতে মাইনুদ্দিন সম্পর্কে বলা হয়, তিনি ড্রোন হামলায় মাথায় আঘাত পেয়েছেন। অপর যুবক জানান, তার বাম হাতেও গুরুতর আঘাত লেগেছে।
শেষে তারা দেশবাসী ও সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, “আমাদের একটাই অনুরোধ—আমাদেরকে বাঁচান। আমাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন। আমরা আপনাদের সাহায্য চাই।”
তবে ভিডিওটির সত্যতা এবং এতে উত্থাপিত দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এখনো পাওয়া যায়নি।

