Wednesday, October 21

সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। এ রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। এই দেশের প্রতি আপনার যেমন কর্তব্য আছে, আমারও এই দেশের প্রতি কর্তব্য আছে।’

রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিককে নিরাপত্তা দেওয়া। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। সবাই মিলে কাজ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সকলেই এই দেশের সন্তান, এই দেশের মানুষ, বাংলাদেশি। আমরা প্রত্যেকে মানুষ। এটি হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে আগের পরিচয়। এখানে উপস্থিত আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য মানুষ যখন মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন কেউ দেখেনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিষ্টান। যুদ্ধের ময়দানে ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাওয়া হয়নি।

গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে মানুষ রাজনৈতিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নেমেছে। তখনও আন্দোলনকারীরা একে অপরের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি। সবাই মানুষের কথা বলার অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সোচ্চার হয়েছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, সেদিন হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তখন কেউ কাউকে জিজ্ঞেস করেননি, তিনি কোন ধর্মের মানুষ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেদিন সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। শহীদদের মধ্যে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁরা জীবন দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবর্তন হলে সব মানুষই উপকৃত হবেন। আবার কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে ক্ষতি হয় না। মানুষ ভালো থাকলেও ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য হয়ে ওঠে না। মানুষ হিসেবে একে অপরকে বিবেচনা করাই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা আমাদেরকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। একজন আরেকজনকে আমরা চিনি, জানি এই দেশের নাগরিক, বাংলাদেশি হিসেবে।’

দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দুর্গাপূজা আনন্দের উৎসব, মিলনমেলার আয়োজন। এ উৎসব সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও জোরদার করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার ও গিয়াস উদ্দিন রিমন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, গোপাল চন্দ্র দেব নাথ এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 57 = 59