Thursday, October 8

চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞার খবর ও বাজারে তাজা ইলিশের চাহিদা বাড়ায় জেলার বিভিন্ন বাজারে বেড়েছে ইলিশের দাম। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

বুধবার সকালে চাঁদপুরের মতলব, নারায়ণপুর, মুন্সিরহাট ও নায়েরগাঁও বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে ইলিশের দাম বেড়েছে। বেশি দামের কারণে অনেক ক্রেতাই ইলিশ না কিনে ফিরে যাচ্ছেন।

মতলব বাজারে মাছ কিনতে আসা ছানাউল্লাহ বলেন, ‘দিন শেষ হলেই ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা আসবে। এখন সাগর থেকে সব নৌকা ঘাটে এসেছে। এ কারণে ইলিশের দাম অনেক বেড়ে গেছে।’

ক্রেতা জাইমা আক্তার বলেন, ‘ইলিশের দাম স্বর্ণের দামের মতো হয়ে গেছে। ভরা মৌসুমেও দাম কমছে না। ইচ্ছে থাকলেও আমরা ইলিশ কিনে খেতে পারি না।’

আকারভেদে ইলিশের দাম

বাজারে ২০০ গ্রাম ওজনের ছোট আকারের চারটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং এক কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মতলব বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সুকুমার দাস বলেন, ‘এবার মৌসুমে কমবেশি ইলিশ পাওয়া গেছে। তবে তাজা ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় দাম কমেনি। বড় আকারের ইলিশের চাহিদা বেশি, তাই দামও বেশি। আমরা বেশি দামে কিনি, এজন্য বেশি দামে বিক্রি করি।’

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের এই অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ সময় নদী ও সাগরে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত ও মজুত নিষিদ্ধ থাকবে।

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের পাশাপাশি নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী কাজ করবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘মা ইলিশের প্রজননের জন্য এই ২২ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া গেলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে জেলে ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত জেলে পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে।

Leave A Reply


Math Captcha
62 − 58 =