Monday, December 1

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও জামিয়া বাবুনগর মাদরাসার প্রধান পরিচালক আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, “জামায়াতে ইসলামীর ফেতনা কাদিয়ানিদের চেয়েও ভয়াবহ। কাদিয়ানিরা ঈমানের যত ক্ষতি করতে পারেনি, জামায়াতে ইসলামী তার চেয়েও বেশি ক্ষতি করেছে।”

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদরাসার ১০৩তম বার্ষিক মাহফিলের সমাপনী দিনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাবুনগরী বলেন, “ঈমান-আকিদা রক্ষায় বাংলাদেশ থেকে জামায়াতে ইসলামকে নির্মূলের চেষ্টা করতে হবে। যারা সাহাবায়ে কেরাম, বিশেষ করে হযরত ওমর (রা.) সম্পর্কে কটুক্তি করে, তারা মুসলিম হতে পারে না। জামায়াতে ইসলামী নিজেদের ইসলামি সংগঠন বলে দাবি করলেও তারা ঈমানের বড় ডাকাত।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের আকাবিররা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামের ইসলাম আর আমাদের ইসলাম এক নয়। আমাদের ইসলাম মদীনার ইসলাম, আর তাদের ইসলাম মওদুদীবাদীর ইসলাম। যদি ঈমান রক্ষা করতে চাও, জামায়াতে ইসলাম থেকে দূরে থাকো। যারা সেখানে আছে, তাদের ঈমান আছে কি না—তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।”

খেলাফত মজলিশ আমিরের বক্তব্য

মাহফিলে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিশ বাংলাদেশের আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এখন স্কুল, কলেজ, কওমী ও আলিয়া মাদরাসা থেকে একযোগে ফ্যাসিবাদবিরোধী জাগরণ শুরু হয়েছে। এই জাগরণকে কেউ রুখতে পারবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আল্লামা বাবুনগরীর কাছে এই জাতি হাজার বছর ঋণী থাকবে। তিনি আল্লাহর পতাকা উঁচিয়ে আমৃত্যু ইসলাম ও দ্বীনের খেদমতে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন—এটি ইতিহাসে এক সাহসী অধ্যায়।”

শায়খ আহমদুল্লাহর মন্তব্য

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমদুল্লাহ বলেন, “আজকের তরুণ সমাজের বড় অংশ ইসলামের দিকে ফিরে আসছে, কিন্তু পশ্চিমা সভ্যতার অপশক্তি নানা কৌশলে তাদের ঈমান নষ্ট করছে। শিক্ষার ও আধুনিকতার নামে মুসলমানদের আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও দোয়া করেন, “আল্লাহ যেন ওলামায়ে কেরামদের এমন যোগ্যতা ও সাহস দান করেন, যাতে তাঁরা সমাজকে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে পরিবর্তন করতে পারেন।”

মাহফিলের পরিবেশ

মাহফিল শেষে দেশের কল্যাণ ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর, বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, আলেম-উলামা, সাংবাদিক ও হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।

ফটিকছড়ির বিশাল এ সমাবেশে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে মাহফিল প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। উপস্থিত মুসল্লিরা আল্লামা বাবুনগরীর বক্তব্যে সমস্বরে “আল্লাহু আকবার” ধ্বনি দেন এবং ইসলামবিরোধী ফেতনা প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।

মাহফিলের দ্বিতীয় দিনে আরও বয়ান করেন আল্লামা সায়্যিদ মওদুদ মাদানী (দেওবন্দ, ভারত), আল্লামা আওরঙ্গজেব ফারুকী (করাচী, পাকিস্তান), মুফতি মাহমুদ হাসান (চট্টগ্রাম), মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি (ঢাকা) ও মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী (ঢাকা)।

Leave A Reply


Math Captcha
− 2 = 2