Thursday, August 20

সাভারের আশুলিয়ায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক বিবাহিত দম্পতির ভাড়া বাসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী হামলার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই দম্পতি বিয়ে না করে ‘লিভ ইন’ সম্পর্কে রয়েছেন—এমন সন্দেহ থেকেই বাসাটিতে হামলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব নিয়েছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ধামসোনা ইউনিয়নের নলাম এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের মধ্যে একজনের গায়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সংবলিত ‘শিপন’ নাম লেখা জার্সি দেখা গেছে। চারজনই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে নিশ্চিত করেছেন গকসু ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান। তবে তাদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। ভুক্তভোগী দম্পতিও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

ভুক্তভোগী দম্পতি জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিবাহিত এবং দুজনই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হওয়ার পর স্ত্রী গণ বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

তারা নলাম এলাকার ওই বাসায় থাকেন। একই বাসায় আরও দুই নারী শিক্ষার্থী ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন।

দম্পতির ভাষ্য, রোববার রাতে ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল বাসায় গিয়ে তাদের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কাধাক্কি ও গালিগালাজ করে। ওই সময় বাসায় স্ত্রী, অপর দুই নারী শিক্ষার্থী এবং এক নারী শিক্ষার্থীর মা ছিলেন। তবে স্বামী বাইরে ছিলেন।

দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি ও হামলার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী স্বামী বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাজারে ছিলেন। ৬ থেকে ৭ জন ব্যক্তি বাসায় গিয়ে দরজায় লাথি ও ধাক্কাধাক্কি করেন এবং বাসায় থাকা নারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি তখন বাসায় ছিলাম না। আমাকে পেলে হয়তো মারধর করত। ঘটনার পুরো ভিডিও ও অডিও আমার কাছে আছে।’

ভিডিও দেখে ‘শিপন’ নামের এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছেন বলেও জানান তিনি। তাদের সঙ্গে আগে কোনো বিরোধ ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, কেন তারা বাসায় এসেছিলেন, তা তিনি জানেন না। তবে এ ঘটনার পর তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

গকসু ভিপির বক্তব্য

ঘটনাটি মীমাংসার দায়িত্ব নেওয়া গকসু ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, ওই বাসায় এক দম্পতির পাশাপাশি আরও দুই নারী শিক্ষার্থী থাকেন। বাসাটি ঘিরে আগে চুরির ঘটনা নিয়ে বিরোধ হয়েছিল। এলাকার বিশৃঙ্খলার বিষয় জানতে শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘একটা বাড়িতে তিনটা মেয়ে ও একজন ছেলে লিভ ইনে থাকে—এ বিষয়টি জানতে তারা সেখানে গিয়েছিল।’

তবে শিক্ষার্থীরা কাউকে মারধর করতে যাননি দাবি করে তিনি বলেন, তারা শুধু ডাকাডাকি করেছেন, কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। বাসা ভাঙচুরের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান গকসু ভিপি।

পুলিশের বক্তব্য

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে হামলার চেষ্টায় অংশ নেওয়া অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে এ বিষয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Leave A Reply


Math Captcha
47 − = 42