গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। ঘাম, ক্লান্তি, মাথা ভার লাগা ও বারবার তৃষ্ণা পাওয়ার মতো সমস্যা এ সময় স্বাভাবিক। বাইরে রোদের তাপ আর ঘরের ভ্যাপসা আবহাওয়ায় শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে। তাই গরমের দিনে শুধু ঠান্ডা পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
পানিসমৃদ্ধ ফল, শাকসবজি ও হালকা খাবার শরীরে প্রয়োজনীয় তরল ও পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করতে পারে।
পানির ঘাটতি পূরণে ফল
গরমের সময়ে তরমুজ, বাঙ্গি, কমলা, পেয়ারা, আনারস ও টমেটোর মতো পানিসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। এসব খাবারে পানির পাশাপাশি বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে। বিশেষ করে তরমুজ ও বাঙ্গির মতো ফলে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় গরমে এগুলো উপকারী হতে পারে।
ডাবের পানিতে মিলতে পারে স্বস্তি
ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও কিছু ইলেকট্রোলাইট হারিয়ে যেতে পারে। ডাবের পানিতে পানি ও বিভিন্ন ইলেকট্রোলাইট থাকায় গরমে পরিমিত পরিমাণে এটি ভালো একটি পানীয় হতে পারে। তবে ডাবের পানিকে সাধারণ পানির বিকল্প হিসেবে না দেখে পর্যাপ্ত স্বাভাবিক পানির পাশাপাশি খাওয়াই ভালো।
টক দই রাখুন খাবারের তালিকায়
টক দই সহজপাচ্য খাবার হিসেবে অনেকের কাছে জনপ্রিয়। এতে পানি, প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। গরমে দুপুরের খাবারের সঙ্গে পরিমাণমতো টক দই রাখা যেতে পারে। দই দিয়ে তৈরি লাচ্ছিও সতেজতার জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে লাচ্ছিতে অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার না করাই ভালো।
শসা ও সবুজ সবজিতে ভরসা
শসায় পানির পরিমাণ বেশি। তাই গরমে সালাদ হিসেবে শসা খাওয়া শরীরের তরল চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখলে প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পাওয়া যায়।
দুপুরের খাবার রাখুন হালকা
প্রচণ্ড গরমে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত বা ভারী খাবার খেলে অনেকের অস্বস্তি হতে পারে। এ সময় ভাতের সঙ্গে মাছ, ডাল ও সবজি কিংবা হালকা রান্না করা খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও খুব ঝাল খাবার কম খাওয়াই ভালো।
লেবুর শরবতেও মিলতে পারে সতেজতা
গরমে লেবুর শরবত বেশ জনপ্রিয়। পানি, লেবুর রস ও সামান্য লবণ দিয়ে তৈরি শরবত শরীরকে সতেজ অনুভূতি দিতে পারে। তবে এতে অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার না করাই ভালো। ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে চিনি ও লবণের পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
শুধু শরবত নয়, পানি পানেও গুরুত্ব দিন
গরমে শরীরকে স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করা ভালো। তবে অতিরিক্ত মিষ্টি কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক বা অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়কে পানির বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত নয়।
গরমে শরীরকে স্বস্তিতে রাখতে জটিল কোনো নিয়মের প্রয়োজন নেই। পর্যাপ্ত পানি, মৌসুমি ফল, শাকসবজি, দই ও হালকা খাবারের অভ্যাস শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা ও সতেজ রাখতে সহায়তা করতে পারে।
তবে প্রচণ্ড গরমে মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, বিভ্রান্তি বা শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

