Friday, January 16

ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিখোঁজের প্রায় তিন সপ্তাহ পর একটি বাড়ির ফ্ল্যাট থেকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ডায়াবেটিস বাজার এলাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন রোকেয়া রহমান (৩২) ও তাঁর কন্যা ফাতেমা (১৪)। ফাতেমা স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর ফাতেমা ওই এলাকার একটি বাড়িতে গৃহশিক্ষিকার কাছে পড়তে যায়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাসায় না ফেরায় খোঁজে বের হন তার মা রোকেয়া রহমান। এরপর থেকেই মা ও মেয়ে দুজন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন।

নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, নিখোঁজের পর বারবার পুলিশ ও বাড়িওয়ালার কাছে গেলেও তারা কোনো সহযোগিতা পাননি। নিখোঁজের প্রায় ২১ দিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের নিচে ও বাথরুমের ছাদ থেকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত রোকেয়া রহমানের স্বামী শাহীন আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, স্ত্রী ও সন্তানকে খুঁজতে তিনি বহুবার ওই বাড়িতে গিয়েছেন, কিন্তু মালিকপক্ষ কোনো সহযোগিতা করেনি। থানায় গিয়ে জিডি করতে চাইলে তা গ্রহণ না করে উল্টো তাঁকেই সন্দেহ করা হয়।

শাহীন আহমেদ বলেন,
“জিডি করতে গেলে বলা হয়েছে, পারিবারিক সমস্যার কারণে হয়তো তারা কোথাও চলে গেছে। গত ২১ দিনে শতাধিকবার থানায় গিয়েছি, কিন্তু কোনো সুবিচার পাইনি।”

তবে পুলিশের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চলছিল। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গৃহশিক্ষিকাসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রনি চৌধুরী জানান, সিসিটিভি ফুটেজে নিহত ফাতেমাকে ঘর থেকে বের হতে দেখা গেছে। তবে এরপর সে কোন দিকে গেছে, তা ফুটেজে ধরা পড়েনি। অন্যদিকে রোকেয়া রহমানকে গৃহশিক্ষিকার আরেকটি ভাড়া বাসা থেকে বের হতে দেখা গেছে। বাকি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন,
“প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে কাউকেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। সন্দেহভাজনদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হত্যার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”

নিরাপদ ভেবে যে বাড়িতে সন্তানকে পড়তে পাঠিয়েছিলেন মা, সেখানেই এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা।

Leave A Reply


Math Captcha
− 3 = 3