Saturday, April 18

মওদুদীবাদী জামায়াতের সঙ্গে আলেম সমাজের বিরোধ রাজনৈতিক নয়, বরং আদর্শিক—এমনটাই জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা। তাদের মতে, ভ্রান্ত আকিদা সম্পর্কে জাতিকে সতর্ক করা আলেমদের ধর্মীয় দায়িত্ব, যা যুগে যুগে তারা বক্তব্য ও লেখনীর মাধ্যমে পালন করে আসছেন।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ‘৪৭-এর দেশভাগ থেকে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান: আলেম সমাজের ভূমিকা ও আগামীর করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

ইসলামী আকিদা সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক মুফতি রিজওয়ান রফীকির সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় অনুসন্ধানী লেখক ও গবেষক শাকের হোসাইন শিবলি রচিত ‘প্রত্যক্ষ রাজসাক্ষীর বয়ানে জামায়াত-শিবির-মওদুদীবাদের মুখোশ উন্মোচন’ প্রামাণ্য গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

বক্তারা বলেন, মওদুদীবাদী জামায়াত-শিবির ইসলামের নামে ধর্মপ্রাণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্ত করে আসছে। একসময় ‘আকিমুদ্দীন’ তথা দ্বীন প্রতিষ্ঠার কথা বললেও এখন দলীয় অবস্থান ও বক্তব্যে তার স্পষ্ট ব্যত্যয় দেখা যাচ্ছে। তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যেই প্রমাণ হয়—ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে রাজনীতি করলেও আদর্শিকভাবে তারা সে পথে নেই।

আলেমরা আরও বলেন, জামায়াত মদিনার ইসলাম নয়, বরং মওদুদীর মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তারা ইসমতে আম্বিয়া ও সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা বিষয়ে মূলধারার ইসলামী আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান নিয়েছে। এ কারণেই বিশ্বের মূলধারার আলেম সমাজ কখনোই তাদের ইসলামি দল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

ক্ষমতার লোভে ইসলামের বিধিবিধানের অপব্যাখ্যার অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, মসজিদ ও মাহফিলে এসব অপব্যাখ্যার প্রতিবাদ করায় অনেক ইমাম ও আলেম হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এতে শান্তির ধর্ম ইসলামের বদনাম হচ্ছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী আলেমরা আসন্ন নির্বাচনসহ জাতীয় পরিসরে ধর্মের নামে প্রতারণা সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং ভ্রান্ত আকিদা লালনকারী গোষ্ঠীকে ভোট না দেওয়ার আহ্বানও জানান।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 18 = 25