Saturday, October 17

রিয়াদ ও দাম্মামের ফ্লাইট বন্ধ থাকায় সৌদি আরবগামী বাংলাদেশি যাত্রীদের বিকল্প পথ হিসেবে জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের ফ্লাইট স্থগিতের সময়সীমা এক দিন বাড়িয়ে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার পর গত শনিবার থেকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। এরপর মঙ্গলবার থেকে দাম্মামগামী ফ্লাইটও স্থগিত করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানায়, রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের ফ্লাইটের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে। এর আগে বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।

জেদ্দা-মদিনা হয়ে যাত্রার ব্যবস্থা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরব যেতে এবং দেশে ফিরতে পারবেন। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭-এর পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ যুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রতি ফ্লাইটে আসনসংখ্যা ১৪৮টি বেড়েছে।

এ ছাড়া জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিকিট পরিবর্তন ও অন্যান্য তথ্যের জন্য যাত্রীদের বিমানের টিকিট বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

রিয়াদগামী বেশ কয়েকজন যাত্রী ইতোমধ্যে টিকিট পরিবর্তন করে জেদ্দা বা মদিনা হয়ে সৌদি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ রিয়াদের পরিবর্তে জেদ্দার টিকিট নিয়েছেন, আবার কেউ মদিনাগামী ফ্লাইটে যাওয়ার ব্যবস্থা করছেন।

১০৩ ফ্লাইট বিঘ্নিত, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে ঢাকা থেকে সরাসরি সৌদি আরবগামী ফ্লাইটের পাশাপাশি সৌদি আরব হয়ে চলাচলকারী ট্রানজিট ফ্লাইট মিলিয়ে মোট ১০৩টি ফ্লাইটের চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। এসব ফ্লাইটের কিছু স্থগিত এবং কিছু বাতিল করা হয়েছে। এতে ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়ার ৮টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি—মোট ৪২টি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৮টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ৩টি ফ্লাইট রয়েছে। সব মিলিয়ে ট্রানজিট ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে ৬১টি।

রিয়াদ ও দাম্মামের ফ্লাইট বন্ধ থাকায় সৌদি আরবগামী যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত থাকলেও জেদ্দা ও মদিনা রুট চালু থাকায় আপাতত এসব বিমানবন্দরকেই বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন যাত্রীরা।

Leave A Reply


Math Captcha
34 − = 29