Wednesday, November 4

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ২ নম্বর ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি সম্পদ হিসেবে থাকা জানালা অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুটি ভ্যানে করে পরিষদের জানালা তাঁর বাড়িতে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা ভ্যান দুটি আটক করেন। পরে চেয়ারম্যানকে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বেশ কয়েকটি জানালা দুটি ভ্যানযোগে পরিষদ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা ভ্যান দুটির গতিরোধ করে জানালাগুলো আটকে দেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় জড়ো হন এবং চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানকে জানানো হয়। তিনি ছুটিতে থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাটি অবহিত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেন। এরপর ভূমি কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনকে নিরাপত্তা দিয়ে পিকআপে করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি সম্পদ অপসারণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি-বিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হামিদুল হক বাবু ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সরকারি সম্পদ অপসারণ, হস্তান্তর কিংবা নিলামের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকা প্রয়োজন।

তাঁদের দাবি, কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়া পরিষদের জানালা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকলে তা সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়মের বিষয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তাঁরা।

ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, দিনের বেলায় সরকারি সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা ভ্যান দুটি আটক করেছেন। এরপরও তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, সরকারি সম্পদ সরানোর অভিযোগের ক্ষেত্রেও কেন তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলো না।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভূমি কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান বলেন, সরকারি সম্পদ অন্যত্র নেওয়ার সময় জনগণ মালামাল জব্দ করেন। পরে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জানালাগুলো উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন অপরাধ স্বীকার করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাঁরা পরিষদের সরকারি জানালাগুলো কীভাবে, কার নির্দেশে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোথায় নেওয়া হচ্ছিল—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি কোনো অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনকে ইউনিয়ন পরিষদে বসতে দেওয়া হবে না। এতে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
78 − = 70