Saturday, August 15

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও তাঁর ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরীর পাল্টাপাল্টি সমাবেশের পর এবার সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। নাছির চৌধুরীর স্ত্রী পারভীন আকতার তাঁর স্বামীর তিন সৎভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেছেন।

মামলার আরজিতে পারভীন আকতার অভিযোগ করেন, নাছির চৌধুরী স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ ও মানসিকভাবে অবুঝ থাকা অবস্থায় তাঁর তিন সৎভাই গলায় রামদা ধরে ভয় দেখিয়ে বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের দলিলে সই করিয়ে নেন।

সোমবার সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দিরাই আমলি আদালতে মামলার আবেদন করা হয়। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় অভিযুক্ত নাছির চৌধুরীর তিন সৎভাই হলেন দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী (মাসুক), মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোহলেহ উদ্দিন চৌধুরী।

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে নাছির চৌধুরী অসুস্থ থাকাকালে তাঁর সম্পত্তি নিজেদের নামে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তাঁর সৎভাইয়েরা। ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা সাজিয়ে বাড়িতে নেওয়া হয়। নাছির চৌধুরী দলিলে সই করতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর গলায় রামদা ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে সই করানো হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁর স্ত্রী।

পারভীন আকতারের দাবি, পরে পুলিশের সহায়তায় নাছির চৌধুরীকে উদ্ধার করে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। সুস্থ হওয়ার পর তিনি জোর করে দলিলে সই নেওয়ার বিষয়টি স্ত্রীকে জানান। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হলে অভিযুক্তরা দলিল বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মঈন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কিছু ঝামেলা রয়েছে। মামলার বিষয়ে তিনি জানেন না। বিষয়টি জানার পর আইনিভাবেই জবাব দেবেন।

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি সম্প্রতি দুই ভাইয়ের রাজনৈতিক বিরোধও প্রকাশ্যে এসেছে। ৬ আগস্ট দিরাইয়ে এক সমাবেশে নাছির চৌধুরী বলেন, তাঁর কোনো ভাই নেই। এর পরদিন মঈন উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে পাল্টা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নাছির চৌধুরীকে একটি ‘লুটেরা সিন্ডিকেট’ ঘিরে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন মঈন উদ্দিন।

Leave A Reply


Math Captcha
57 + = 61