Monday, October 19

জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার কারণে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর আইনজীবীরা। তাঁদের দাবি, বিমানবন্দরে দুর্নীতি, লাগেজ চুরি ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ তুলে কথা বলার কারণেই আখতারুজ্জামানকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, বিমানবন্দরে আখতারুজ্জামানের আচরণ ছিল অপরাধমূলক এবং তাঁকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা ও দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার আখতারুজ্জামানকে শনিবার ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলাম তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পুলিশ পাহারায় প্রিজন ভ্যানে করে তাঁকে আদালতে নেওয়া হয়। প্রিজন ভ্যান থেকে নামার সময় মাথায় থাকা হেলমেট ছুড়ে ফেলেন তিনি। পরে তাঁকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাংবাদিকদের এজলাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরে রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আখতারুজ্জামানের পক্ষে আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য

শুনানি শেষে পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদ সাধারণ প্রতিবাদ ছিল না; তাঁর আচরণকে তিনি অপরাধমূলক প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছু ব্যক্তিকে যুক্ত করছে এবং তাঁদের মাধ্যমে উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য ও গালাগালের ঘটনা ঘটছে। আখতারুজ্জামানের ক্ষেত্রেও দলটি তাঁকে এমন কাজে ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের এসব বক্তব্যের বিষয়ে আদালতের আদেশে কী পর্যবেক্ষণ এসেছে, তা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

আসামিপক্ষের দাবি

আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিমানবন্দরের দুর্নীতি, লাগেজ চুরি ও প্রবাসীদের হয়রানির বিষয়গুলো সামনে আনার কারণেই তাঁর মক্কেলকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাঁর দাবি, মামলা করার মতো প্রয়োজনীয় উপাদান নেই।

আইনজীবী আরও বলেন, আখতারুজ্জামান আগে সংসদ সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন।

যে ঘটনায় মামলা

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদের সঙ্গে আখতারুজ্জামানের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

পরে বিমানবন্দর থানায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব।

এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

Leave A Reply


Math Captcha
32 − = 30