নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার করা রিট হাইকোর্টের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রিটটির প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
দুদকের অনুসন্ধানের শুরুতেই আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’—এমন বক্তব্য দিয়ে করা দুটি প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়েছিল।
রিটে বলা হয়, গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের কর্মকর্তারা দুটি প্রেস ব্রিফিং করেন। সেখানে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর কথা জানিয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে উল্লেখ করা হয়। রিটে এসব বক্তব্যকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার পাশাপাশি চলমান অনুসন্ধান বা তদন্ত নিয়ে ভবিষ্যতে প্রেস ব্রিফিং থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
রিট আবেদনে আরও বলা হয়, অনুসন্ধানের শুরুতেই কোনো অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বলা আইনগতভাবে যথাযথ নয়। পরে দুদকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আসিফ মাহমুদের আইনজীবীর দাবি, ওই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তার সাংবিধানিক অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং বিষয়টি ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। রিটে ২০১১ সালের তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব সাইদুর রহমান খান বলেছিলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাইয়ে ‘আমলযোগ্য’ বিবেচিত হওয়ায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সুযোগ নেই।
হাইকোর্টের মঙ্গলবারের আদেশের পর রিটটির মূল দাবিগুলোর বিষয়ে আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

