মায়ের মৃত্যুতে শর্তসাপেক্ষে পাঁচ ঘণ্টার জন্য কারামুক্ত হয়েছেন ইসকনের সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে নেওয়া হচ্ছে।
চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা তাকে প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ জানান, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে চিন্ময়কে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাত ৯টার মধ্যে তাকে কারাগারে ফেরার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, প্যারোলে মুক্তির পর চিন্ময়কে হাটহাজারীতে নেওয়া হচ্ছে। পুণ্ডরীক ধাম ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি তদারক করছেন।
চিন্ময়ের মা সন্ধ্যা রাণী ধর বৃহস্পতিবার সকালে হাটহাজারীর মেখল গ্রামের পুণ্ডরীক ধামে মারা যান। ৭১ বছর বয়সী সন্ধ্যা রাণী হৃদরোগ, ফুসফুসে সংক্রমণ, নিম্ন রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি নগরীর আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার পর বুধবার পরিবারের পক্ষ থেকে চিন্ময়কে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। তবে অসুস্থ স্বজনকে দেখতে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্যারোলে মুক্তির বিধান না থাকায় সেই আবেদন নাকচ হয়। পরে সন্ধ্যা রাণীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বুধবার রাতে তাকে পুণ্ডরীক ধামে নেওয়া হয়। কারাবন্দি চিন্ময় ওই মন্দিরের সেবায়েত ছিলেন।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পারিবারিক নাম চন্দন কুমার ধর। তার বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলায়। তিনি ইসকনের সাবেক সংগঠক এবং সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র।
জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। ওই সময় তার অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে আদালত-সংলগ্ন পাথরঘাটা বাণ্ডেল রোডে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটে।
রাষ্ট্রদ্রোহ ও আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাসহ চিন্ময়ের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আলিফ হত্যা মামলার বিচার চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে চলছে।

